মুদ্রা
BDT USD মূল্য প্রতিটি প্রোভাইডারের দেওয়া হিসেবেই বাংলাদেশি টাকায় (BDT) দেখানো হয়েছে।
Saint Martin's Island — দ্বীপ, Cox's Bazar

Saint Martin's Island

দ্বীপ

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ — নারিকেল বাগান, দেশের সবচেয়ে স্বচ্ছ পানি আর গাড়িমুক্ত শান্ত পরিবেশ।

🏝️ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ — যেখানে স্বচ্ছ নীল পানি, প্রবাল পাথর, নারকেল গাছ আর শান্ত সৈকত মিলে এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করেছে।

🚢 জাহাজে ২.৫-৩ ঘণ্টা 📅 নভেম্বর - জানুয়ারি 🪸 কোরাল দ্বীপ 🌴 নারিকেল জিঞ্জিরা
৩,৫০০+
জাহাজ টিকিট (টাকা)
২.৫-৩
ঘণ্টা জাহাজে
২,০০০
দৈনিক পর্যটক সীমা
নভে-জানু
ভ্রমণের অনুমতি

🏝️ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ - পরিচিতি

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ (Saint Martin's Island) বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত একমাত্র কোরাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে, টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় ভাষায় এটি "নারিকেল জিঞ্জিরা" নামেও পরিচিত। প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি তার স্বচ্ছ নীল পানি, কোরাল পাথর, নারকেল গাছ ও শান্ত পরিবেশের জন্য বিখ্যাত।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত — উত্তর পাড়া (মূল দ্বীপ), মধ্যবর্তী অংশ এবং দক্ষিণে ছেঁড়া দ্বীপ। উত্তর পাড়ায় বেশিরভাগ হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও স্থানীয় মানুষের বসতি। ছেঁড়া দ্বীপে গেলে দেখা যায় বিস্তীর্ণ কোরাল পাথর, যেখানে জোয়ারের সময় পানি ঢুকে পড়ে। পশ্চিম পাড়ায় সূর্যাস্ত এবং উত্তর পাড়ায় সূর্যোদয় — দুটোই অসাধারণ।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়ার মূল উপায় কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে জাহাজ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে টেকনাফ রুট বন্ধ থাকায় শুধু নুনিয়াছড়া ঘাট থেকেই জাহাজ চলাচল করছে। জাহাজ সকাল ৭টায় ছাড়ে এবং পরদিন বিকেল ৩টায় ফিরে আসে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ জন পর্যটক দ্বীপে যেতে পারেন।

💡 সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বিশেষত্ব

  • একমাত্র কোরাল দ্বীপ: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
  • স্বচ্ছ নীল পানি: কক্সবাজারের চেয়েও বেশি স্বচ্ছ।
  • ছেঁড়া দ্বীপ: জোয়ারের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অংশ।
  • কোরাল পাথর: সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাল পাথর।
  • নারকেল গাছ: দ্বীপজুড়ে হাজারো নারকেল গাছ।
  • সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত: দুই পাড়ে দুই দৃশ্য।
  • জাহাজ যাত্রা: সমুদ্রের মাঝখানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

মূল কথা: সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ও অনন্য দ্বীপ।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কিছু তথ্য

বিষয় তথ্য
আয়তনপ্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার
অবস্থানটেকনাফ থেকে ৯ কিমি দক্ষিণে
উপজেলাটেকনাফ, কক্সবাজার
স্থানীয় নামনারিকেল জিঞ্জিরা
জনসংখ্যাপ্রায় ৭,০০০ - ৮,০০০
ভ্রমণের অনুমতি১ নভেম্বর - ৩১ জানুয়ারি
দৈনিক পর্যটক সীমা২,০০০ জন

📅 কখন যাওয়ার অনুমতি পাওয়া যায়

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি সরকার নির্ধারণ করে। প্রতিবছর শীতকালে সীমিত সময়ের জন্য দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে নিয়ম কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে।

📋 ২০২৫-২৬ মৌসুমের অনুমতি সময়সূচি

  • ১ নভেম্বর - ৩০ নভেম্বর: শুধু দিনের ভ্রমণ (ডে ট্রিপ)। রাতে থাকার অনুমতি নেই।
  • ১ ডিসেম্বর - ৩১ জানুয়ারি: রাত থাকার অনুমতি সহ পূর্ণ ভ্রমণ।
  • ১ ফেব্রুয়ারি - ৩১ অক্টোবর: দ্বীপ পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ।

মূল কথা: ডিসেম্বর ও জানুয়ারি সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সেরা সময়, কারণ তখন রাত থাকার সুযোগ আছে।

আগের মৌসুমের সাথে পার্থক্য

বিষয় আগের নিয়ম ২০২৫-২৬ মৌসুম
ভ্রমণের সময়১ অক্টোবর - ৩১ মার্চ১ নভেম্বর - ৩১ জানুয়ারি
নভেম্বরে রাত থাকাঅনুমতি ছিলনিষিদ্ধ (শুধু ডে ট্রিপ)
টেকনাফ রুটচালু ছিলবন্ধ
দৈনিক সীমাসীমিত ছিল না২,০০০ জন

কেন অনুমতি সীমিত করা হয়েছে

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কোরাল ইকোসিস্টেম অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতিরিক্ত পর্যটক, প্লাস্টিক দূষণ ও পরিবেশের ক্ষতি রোধ করতে সরকার ভ্রমণের সময় কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় দৈনিক পর্যটক সংখ্যা ২,০০০ জনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। তাই আগে থেকে পরিকল্পনা করে টিকিট কাটা জরুরি।

⚠️ সতর্কতা: সরকারি নিয়ম প্রতিবছর পরিবর্তন হতে পারে। যাওয়ার আগে অবশ্যই স্থানীয় প্রশাসন, ট্রাভেল এজেন্সি বা Coxroom.com এর সাথে যোগাযোগ করে বর্তমান নিয়ম জেনে নিন। অনুমতি ছাড়া দ্বীপে যাওয়া সম্ভব নয়।

🚢 কিভাবে যাবেন (জাহাজ গাইড)

২০২৫-২৬ মৌসুমে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে জাহাজ। টেকনাফ রুট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সেখান থেকে ট্রলার বা জাহাজ পাওয়া যায় না। জাহাজ সকাল ৭টায় ছাড়ে এবং পরদিন বিকেল ৩টায় ফিরে আসে।

ধাপে ধাপে যাওয়ার পথ

ধাপ গন্তব্য যানবাহন সময়
১ঢাকা → কক্সবাজারবাস/ফ্লাইট১০-১২ ঘণ্টা / ১ ঘণ্টা
২কক্সবাজার শহর → নুনিয়াছড়া ঘাটসিএনজি/টমটম/রিকশা১৫-৩০ মিনিট
৩নুনিয়াছড়া ঘাট → সেন্ট মার্টিনজাহাজ২.৫ - ৩ ঘণ্টা

নুনিয়াছড়া ঘাট - জাহাজ ছাড়ার স্থান

নুনিয়াছড়া ঘাট কক্সবাজার শহরের কাছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত। শহরের যেকোনো জায়গা থেকে সিএনজি বা টমটমে করে সহজে যাওয়া যায়। জাহাজ ছাড়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে ঘাটে পৌঁছানো প্রয়োজন।

💡 টিপস: জাহাজের টিকিট সাধারণত আগের দিন বা কিছুদিন আগে থেকেই পাওয়া যায়। পিক সিজনে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাই আগে থেকে বুক করা জরুরি। সকাল ৭টার জাহাজ ধরতে হলে আগের রাতে কক্সবাজারে থাকা ভালো।

⛴️ জাহাজের তালিকা ও সময়সূচি

সেন্ট মার্টিন রুটে সরকার অনুমোদিত কয়েকটি জাহাজ চলাচল করে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৬টি জাহাজকে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিচে জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো।

জাহাজের নাম বৈশিষ্ট্য যাত্রী ধারণক্ষমতা
MV Karnafuly Expressএসি/নন-এসি, দ্রুতগতির৭০০+
MV Baro Awliaএসি/নন-এসি৬০০+
Keari Sindbadএসি/নন-এসি৫০০+
MV Bay Cruiseক্যাটামারান, দ্রুতগতির৪০০+
MV Kajolএসি/নন-এসি৪০০+
Keari Cruise and Dineক্রুজ, খাবার সহ৩০০+

জাহাজের সময়সূচি

বিষয় সময়
কক্সবাজার (নুনিয়াছড়া) থেকে ছাড়াসকাল ৭:০০
সেন্ট মার্টিন পৌঁছানোসকাল ৯:৩০ - ১০:০০
সেন্ট মার্টিন থেকে ফেরাপরদিন বিকেল ৩:০০
কক্সবাজার পৌঁছানোবিকেল ৫:৩০ - ৬:০০

জাহাজের সুবিধা

  • এসি ও নন-এসি কেবিন: ভাড়ার উপর নির্ভর করে।
  • খাবার ও পানি: কিছু জাহাজে পাওয়া যায়।
  • টয়লেট: সব জাহাজে আছে।
  • নিরাপত্তা: লাইফ জ্যাকেট ও প্রশিক্ষিত ক্রু।
  • ছাদ/ডেক: সমুদ্র দেখার জন্য।

💡 টিপস: জাহাজের টিকিট বুক করার সময় কেবিন ক্লাস ভালোভাবে জেনে নিন। নন-এসি ক্লাসে ভাড়া কম, তবে গরম লাগতে পারে। ডেক-এ বসার সুযোগ থাকলে সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

⚠️ সতর্কতা: শুধু সরকার অনুমোদিত জাহাজে ভ্রমণ করুন। অননুমোদিত নৌকা বা ট্রলারে ভ্রমণ বিপজ্জনক। জাহাজের টিকিট ছাড়া ঘাটে ওঠা যায় না।

🎫 টিকিট কাটার নিয়ম ও QR কোড

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য টিকিট কাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিকিট অনলাইনে কাটতে হয় এবং প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও QR কোড থাকতে হয়। QR কোড ছাড়া টিকিট সম্পূর্ণ অবৈধ।

টিকিট কেনার পদ্ধতি

পদ্ধতি বিবরণ
অনলাইনবাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত পোর্টাল বা জাহাজ কোম্পানির ওয়েবসাইট
ট্রাভেল এজেন্সিCoxroom.com সহ অনুমোদিত এজেন্সি
জাহাজ কোম্পানিসরাসরি জাহাজ অফিসে
ঘাটেকিছু ক্ষেত্রে জাহাজ ছাড়ার আগে (সীমিত)

QR কোড ও ট্রাভেল পাস

  • QR কোড: প্রতিটি টিকিটে QR কোড থাকতে হবে।
  • ট্রাভেল পাস: টিকিটের সাথে সংযুক্ত থাকে।
  • যাচাই: ঘাটে ওঠার সময় QR কোড স্ক্যান করা হয়।
  • অবৈধ টিকিট: QR কোড ছাড়া টিকিট গ্রহণযোগ্য নয়।
  • প্রিন্ট কপি: অনলাইন টিকিটের প্রিন্ট বা মোবাইল কপি সাথে রাখুন।

টিকিট ভাড়ার বিবরণ

ক্লাস যাওয়া-আসা ভাড়া (জনপ্রতি)
নন-এসি৩,৫০০ - ৪,০০০ টাকা
এসি৪,০০০ - ৪,৫০০ টাকা
ভিআইপি / ডিলাক্স৪,৫০০ - ৫,০০০+ টাকা

💡 টিপস: টিকিট বুক করার সময় নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে দিন। ভুল তথ্য দিলে ঘাটে সমস্যা হতে পারে। টিকিটের হার্ড কপি বা মোবাইল স্ক্রিনশট সাথে রাখুন।

💰 সম্পূর্ণ খরচের হিসাব

২০২৫-২৬ মৌসুমে টেকনাফ রুট বন্ধ ও শুধু নুনিয়াছড়া থেকে জাহাজ চলাচলের কারণে খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। নিচে সম্পূর্ণ খরচের হিসাব দেওয়া হলো।

খরচের খাত বাজেট (জনপ্রতি) মধ্যম (জনপ্রতি)
ঢাকা → কক্সবাজার (বাস)১,২০০ টাকা২,০০০ টাকা
জাহাজ টিকিট (যাওয়া-আসা)৩,৫০০ টাকা৪,৫০০ টাকা
হোটেল (১-২ রাত)১,৫০০ টাকা৫,০০০ টাকা
খাবার (২-৩ দিন)৮০০ টাকা২,৫০০ টাকা
ছেঁড়া দ্বীপ ট্রলার৫০০ টাকা১,৫০০ টাকা
কক্সবাজার → ঢাকা (ফেরা)১,২০০ টাকা২,০০০ টাকা
মোট৮,৭০০ টাকা১৭,৫০০ টাকা

খরচ কমানোর টিপস

  • বাসে যান (ফ্লাইটের চেয়ে সস্তা)।
  • নন-এসি জাহাজ ক্লাসে যান।
  • গেস্ট হাউস বা বাজেট হোটেলে থাকুন।
  • স্থানীয় দোকানে খান, হোটেল রেস্টুরেন্ট এড়িয়ে চলুন।
  • গ্রুপে গেলে খরচ ভাগ করুন।
  • অপ্রয়োজনীয় শপিং এড়িয়ে চলুন।

💡 টিপস: ২০২৫-২৬ মৌসুমে শুধু জাহাজ টিকিটই ৩,৫০০-৪,৫০০ টাকা। তাই কমপক্ষে ১০,০০০ টাকা বাজেট রাখা ভালো। Coxroom.com এ বুক করলে বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়।

📍 সেন্ট মার্টিনে কী দেখবেন

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে দেখার মতো অনেক জায়গা আছে। নিচে প্রধান স্থানগুলোর তালিকা দেওয়া হলো।

স্থান বিবরণ
ছেঁড়া দ্বীপদ্বীপের দক্ষিণে, জোয়ারের সময় আলাদা হয়ে যায়। কোরাল পাথরের জন্য বিখ্যাত।
পাথরের দ্বীপছেঁড়া দ্বীপের আরও দক্ষিণে ছোট পাথুরে দ্বীপ।
উত্তর পাড়ামূল দ্বীপ, হোটেল ও বাজার এলাকা। সূর্যোদয় দেখা যায়।
পশ্চিম পাড়াসূর্যাস্ত দেখার সেরা জায়গা।
চেরাদিয়াদ্বীপের পশ্চিমে ছোট এলাকা, শান্ত পরিবেশ।
কোরাল সৈকতজোয়ারের সময় কোরাল পাথর দেখা যায়।
নারকেল বাগানদ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নারকেল গাছ।
স্থানীয় জেলেপাড়াস্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা দেখা যায়।

সেন্ট মার্টিনে কী কী করবেন

  • সাঁতার: নিরাপদ এলাকায়।
  • স্নরকেলিং: কিছু অপারেটর সেবা দেয় (মৌসুম সাপেক্ষে)।
  • বিচ ফটোগ্রাফি: স্বচ্ছ পানি ও কোরাল পাথরের ছবি।
  • ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়া: ট্রলার বা হেঁটে (জোয়ারের সময়)।
  • সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখা: দুই পাড়ে দুই দৃশ্য।
  • সামুদ্রিক খাবার খাওয়া: তাজা মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি।
  • নারকেল পানি পান: তাজা নারকেল।
  • তারার আকাশ দেখা: রাতে অসাধারণ।

💡 টিপস: ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়ার সময় জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন। জোয়ারের সময় পানি বেড়ে গেলে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

🏨 হোটেল ও থাকার ব্যবস্থা

সেন্ট মার্টিনে থাকার জন্য অনেক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউস আছে। বেশিরভাগ হোটেল উত্তর পাড়ায়। শীতকালে চাহিদা অনেক বেশি থাকে, তাই আগে থেকে বুক করা জরুরি।

বাজেট প্রতি রাতের ভাড়া সুবিধা
বাজেট১,০০০ - ২,৫০০ টাকাবেসিক রুম, ফ্যান/এসি
মিড-রেঞ্জ৩,০০০ - ৬,০০০ টাকাএসি, সি ভিউ, রেস্টুরেন্ট
প্রিমিয়াম৬,০০০ - ১২,০০০ টাকাসি ভিউ, ব্রেকফাস্ট, জেনারেটর
গেস্ট হাউস৭০০ - ১,৫০০ টাকাশেয়ার্ড বাথ, বেসিক

💡 টিপস: ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সেন্ট মার্টিনের হোটেল ১-২ মাস আগে বুক করা উচিত। Coxroom.com এ হোটেল বুক করলে বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়।

🍽️ খাবার ও রেস্টুরেন্ট

সেন্ট মার্টিনে খাবারের মূল আকর্ষণ তাজা সামুদ্রিক মাছ। দ্বীপে স্থানীয় রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও ছোট খাবারের দোকান আছে। দাম কক্সবাজার শহরের চেয়ে একটু বেশি কারণ সবকিছু জাহাজে করে আনতে হয়।

খাবারের ধরন আনুমানিক দাম
ভাত + মাছ + ডাল১৫০ - ৪০০ টাকা
সামুদ্রিক মাছ গ্রিল৩০০ - ১,০০০ টাকা
কাঁকড়া / চিংড়ি৫০০ - ১,৫০০ টাকা
কোরাল মাছ৪০০ - ১,২০০ টাকা
নাস্তা৫০ - ১৫০ টাকা
নারকেল পানি৫০ - ১০০ টাকা
চা / কফি২০ - ৫০ টাকা

💡 টিপস: সামুদ্রিক মাছ কেনার আগে দাম আগে ঠিক করে নিন। জেলেপাড়ায় গিয়ে তাজা মাছ কিনে রেস্টুরেন্টে রান্না করিয়ে খেলে সস্তা পড়বে।

🕒 ভ্রমণ পরিকল্পনা

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য একটি নমুনা পরিকল্পনা নিচে দেওয়া হলো। ৩ দিন ২ রাতের এই পরিকল্পনাটি পরিবর্তন করতে পারেন।

১ম দিন - যাত্রা

  • রাত ১০:০০: ঢাকা থেকে কক্সবাজারের বাস।
  • সকাল ৬:০০: কক্সবাজার পৌঁছান।
  • সকাল ৬:৩০: নুনিয়াছড়া ঘাটে যান।
  • সকাল ৭:০০: জাহাজে সেন্ট মার্টিন যাত্রা।
  • সকাল ১০:০০: সেন্ট মার্টিন পৌঁছান, হোটেলে চেক-ইন।
  • দুপুর: দুপুরের খাবার।
  • বিকেল: উত্তর পাড়া ও সূর্যোদয় পয়েন্ট ঘোরা।
  • সন্ধ্যা: পশ্চিম পাড়ায় সূর্যাস্ত।
  • রাত: সামুদ্রিক খাবার।

২য় দিন - ছেঁড়া দ্বীপ

  • ভোর ৫:৩০: সূর্যোদয় দেখা।
  • সকাল ৮:০০: নাস্তা।
  • সকাল ৯:০০: ছেঁড়া দ্বীপ যাওয়ার ট্রলার।
  • সকাল ১০:০০: ছেঁড়া দ্বীপ ও পাথরের দ্বীপ ঘোরা।
  • দুপুর: দুপুরের খাবার।
  • বিকেল: সাঁতার, ছবি তোলা ও শপিং।
  • সন্ধ্যা: সূর্যাস্ত ও তারার আকাশ।
  • রাত: স্থানীয় খাবার।

৩য় দিন - ফেরা

  • ভোর ৬:০০: সূর্যোদয় ও সৈকতে হাঁটা।
  • সকাল ৮:০০: নাস্তা ও চেক-আউট।
  • সকাল ৯:০০: উত্তর পাড়া ও স্থানীয় বাজার ঘোরা।
  • সকাল ১০:০০: জাহাজের জন্য প্রস্তুতি।
  • দুপুর ২:৩০: জাহাজে ওঠা।
  • বিকেল ৩:০০: জাহাজ ছাড়ে।
  • সন্ধ্যা ৬:০০: কক্সবাজার পৌঁছান।
  • রাত: ঢাকার বাস।

💡 টিপস: এই পরিকল্পনা শুধু একটি নমুনা। আপনার সময় ও বাজেট অনুযায়ী পরিবর্তন করুন। নভেম্বরে গেলে রাত থাকার অনুমতি নেই, তাই ১ দিনের ডে ট্রিপই করতে হবে।

💡 ১৫টি জরুরি টিপস

১. অনুমতির সময় জেনে যান — নভে-জানু।
২. আগে থেকে জাহাজ টিকিট বুক করুন।
৩. সকাল ৭টার জাহাজ ধরতে আগের রাতে কক্সবাজারে থাকুন।
৪. QR কোড সহ টিকিট সাথে রাখুন।
৫. নন-এসি ক্লাসে ভাড়া কম।
৬. সামুদ্রিক অসুস্থতার ঔষধ সাথে নিন।
৭. নগদ টাকা নিয়ে যান — ATM নেই।
৮. মোবাইল চার্জ ও পাওয়ার ব্যাংক আনুন।
৯. সানস্ক্রিন ও টুপি ব্যবহার করুন।
১০. ছেঁড়া দ্বীপে জোয়ারের সময় জেনে যান।
১১. কোরাল পাথর সংগ্রহ করবেন না।
১২. প্লাস্টিক ব্যবহার কম করুন।
১৩. স্থানীয় মানুষকে সম্মান করুন।
১৪. জরুরি নম্বর সেভ রাখুন।
১৫. অভিজ্ঞতা উপভোগ করুন!

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে কখন যাওয়ার অনুমতি পাওয়া যায়?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে — নভেম্বরে শুধু দিনের ভ্রমণ (রাত নিষিদ্ধ), ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত থাকার অনুমতি। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ।

সেন্ট মার্টিনে কি জাহাজ সার্ভিস আছে?

হ্যাঁ, কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে জাহাজ সার্ভিস আছে। প্রধান জাহাজগুলো — MV Karnafuly Express, MV Baro Awlia, Keari Sindbad, MV Bay Cruise, MV Kajol, Keari Cruise and Dine। জাহাজ সকাল ৭টায় ছাড়ে এবং পরদিন বিকেল ৩টায় ফিরে আসে।

সেন্ট মার্টিন জাহাজের টিকিট কত?

কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিন যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৩,৫০০ টাকা। ভালো ক্লাসে ৪,০০০-৪,৫০০ টাকা। আগে টেকনাফ থেকে ১,০০০-১,২০০ টাকায় যাওয়া যেত, তবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে টেকনাফ রুট বন্ধ।

সেন্ট মার্টিনে কি ট্রলার চলে?

২০২৫-২৬ মৌসুমে টেকনাফ রুট বন্ধ থাকায় ট্রলার সার্ভিসও সীমিত। মূলত জাহাজ সার্ভিসই চলছে। তবে দ্বীপের ভেতরে ছেঁড়া দ্বীপ যাওয়ার জন্য ছোট ট্রলার/স্পিড বোট পাওয়া যায়।

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য কি আগে থেকে টিকিট কাটতে হয়?

হ্যাঁ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিকিট অনলাইনে কাটতে হয় এবং প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও QR কোড থাকতে হয়। QR কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ। টিকিট সাধারণত জাহাজ ছাড়ার আগের দিন বা কিছুদিন আগে থেকেই পাওয়া যায়।

সেন্ট মার্টিনে দিনে কতজন পর্যটক যেতে পারে?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ জন পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যেতে পারেন। এর বেশি টিকিট বিক্রি করা হয় না।

সেন্ট মার্টিনে কত দিন থাকা যায়?

ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত থাকার অনুমতি থাকে, তাই ২-৩ দিন থাকা যায়। নভেম্বরে শুধু দিনের ভ্রমণ করা যায় (সকালে যাওয়া, বিকেলে ফেরা)। ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দ্বীপ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে মোট কত খরচ হয়?

ঢাকা থেকে ২-৩ দিনের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে জনপ্রতি ৮,০০০ থেকে ১৮,০০০ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে বাস/ফ্লাইট, জাহাজ টিকিট, হোটেল, খাবার ও অ্যাক্টিভিটি অন্তর্ভুক্ত। শুধু জাহাজ টিকিটই ৩,৫০০-৪,৫০০ টাকা।

সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?

সরকারি অনুমতি অনুযায়ী নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে যাওয়া যায়। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত থাকার সুযোগ থাকায় এই সময়টি সেরা। নভেম্বরে শুধু দিনের ভ্রমণ সম্ভব।

সেন্ট মার্টিনে কি মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়?

সেন্ট মার্টিনে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল। কিছু জায়গায় ২জি/৩জি পাওয়া যায়, তবে ইন্টারনেট স্পিড ধীর। জরুরি যোগাযোগের জন্য আগে থেকে ব্যবস্থা নিন।

📝 জরুরী তথ্য ও শর্তাবলী

• সকল তথ্য পরিবর্তন সাপেক্ষ।

• ১ ফেব্রুয়ারি - ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ।

• নভেম্বরে রাত থাকার অনুমতি নেই (শুধু ডে ট্রিপ)।

• QR কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ।

• দৈনিক পর্যটক সীমা ২,০০০ জন।

• শুধু সরকার অনুমোদিত জাহাজে ভ্রমণ করুন।

• কোরাল পাথর সংগ্রহ করে নিয়ে যাবেন না।

• পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন — প্লাস্টিক ফেলবেন না।

• স্থানীয় মানুষ ও তাদের সংস্কৃতি সম্মান করুন।

• জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল করুন।

• Coxroom.com শুধু তথ্য সরবরাহ করে, ভ্রমণের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির।

আরও দেখার জায়গা

সব দর্শনীয় স্থান দেখুন

ভ্রমণ গাইড

সব গাইড দেখুন