ভ্রমণ
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ মাধ্যমগুলোর একটি হলো ট্রেন। এই গাইডে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের সব ট্রেনের নম্বর, ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময় এবং ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ টেবিল দেওয়া হলো। ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সাজানো এই তালিকা ভ্রমণ পরিকল্পনায় কাজে লাগবে।
📋 এই পেজে যা যা আছে
🚆 ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন রুটের সারসংক্ষেপ
ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে বর্তমানে একাধিক ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিচ্ছে, আর ২০২৬ সালে যুক্ত হয়েছে মহানগর এক্সপ্রেস। এই তিনটি ট্রেনই ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছাড়ে এবং কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছায়।
রাতের ট্রেনে যাত্রা করলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কক্সবাজার পৌঁছে সকালে সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানো যায়। ভোরের আলোয় সৈকতে পা রাখার অনুভূতি আলাদা। তাই অনেক ভ্রমণকারী রাতের ট্রেনকেই প্রাধান্য দেন।
💡 মূল টিপস
- ট্রেনের টিকিট যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে সংগ্রহ করা যায়; উৎসবের সময় আগে বুক করুন।
- রাতের ট্রেন ধরলে কমলাপুর স্টেশনে অন্তত ৪৫ মিনিট আগে পৌঁছান।
- শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে চাদর বা হালকা কম্বল সঙ্গে রাখুন।
- মহানগর এক্সপ্রেস সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে রোববার, তাই সেই দিন ট্রেনটি ছাড়ে না।
⚠️ মনে রাখবেন: ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সময় সময় পরিবর্তন করতে পারে। যাত্রার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা স্টেশন থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।
⏰ ট্রেনের সময়সূচি ও নম্বর
ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনগুলোর মধ্যে মহানগর এক্সপ্রেস সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে। নিচের টেবিলে প্রতিটি ট্রেনের নম্বর, ছাড়ার সময় ও পৌঁছানোর সময় দেওয়া হলো।
ঢাকা → কক্সবাজার (যাত্রার সময়সূচি)
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ঢাকা (কমলাপুর) ছাড়া | কক্সবাজার পৌঁছানো | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|---|
| মহানগর এক্সপ্রেস | ৭২২ | রাত ৮:৩০ | সকাল ৬:০০ | রোববার |
| কক্সবাজার এক্সপ্রেস | — | রাত (আনুমানিক) | সকাল (আনুমানিক) | — |
| পর্যটক এক্সপ্রেস | — | রাত (আনুমানিক) | সকাল (আনুমানিক) | — |
* মহানগর এক্সপ্রেসের সময়সূচি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী। অন্যান্য ট্রেনের সময়সূচি ঋতু ও রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে; যাত্রার আগে যাচাই করুন।
কক্সবাজার → ঢাকা (ফিরতি সময়সূচি)
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | কক্সবাজার ছাড়া | ঢাকা পৌঁছানো |
|---|---|---|---|
| মহানগর এক্সপ্রেস | ৭২৩ | সকাল ৯:০০ | সন্ধ্যা ৬:৩০ |
| কক্সবাজার এক্সপ্রেস | — | সকাল (আনুমানিক) | বিকাল/সন্ধ্যা (আনুমানিক) |
* মহানগর এক্সপ্রেস ফিরতি যাত্রায় কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ছেড়ে চট্টগ্রামে বিরতি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
💰 ভাড়ার টেবিল
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া শ্রেণিভেদে ভিন্ন। নিচের টেবিলে আনুমানিক ভাড়া দেওয়া হলো। মহানগর এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে।
মহানগর এক্সপ্রেস ভাড়া (ঢাকা ↔ কক্সবাজার)
| আসন শ্রেণি | আনুমানিক ভাড়া (টাকা) | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৬৮৫ | সাশ্রয়ী, বসার সুবিধা |
| শোভন কম্পার্টমেন্ট | — | বেশি আরাম, সীমিত আসন |
| এসি স্নিগ্ধা | — | শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, আধা-বিলাসী |
| এসি বার্থ | ১,৫৭০ | শোয়ার ব্যবস্থা, সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত |
* ভাড়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত; শুধুমাত্র মহানগর এক্সপ্রেসের জন্য প্রযোজ্য। অন্যান্য ট্রেনের ভাড়া শ্রেণি ও ট্রেনভেদে ভিন্ন হতে পারে।
💡 ভাড়া সংক্রান্ত টিপস
- শোভন চেয়ার সবচেয়ে সাশ্রয়ী; কম বাজেটে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।
- রাতের যাত্রায় এসি বার্থ নিলে ঘুমিয়ে আরামে যাওয়া যায়।
- টিকিটের দামে কোনো লুকানো চার্জ নেই; রেলওয়ের নির্ধারিত ভাড়াই পরিশোধ করতে হয়।
🎫 টিকিট বুকিং ও প্রস্তুতি
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা যায় কয়েকটি উপায়ে। রেলওয়ের অফিসিয়াল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, মোবাইল অ্যাপ এবং স্টেশন কাউন্টার—সব জায়গা থেকেই টিকিট কেনা সম্ভব।
টিকিট সংগ্রহের ধাপ
অনলাইন বুকিং: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলে টিকিট কাটা যায়।
স্টেশন কাউন্টার: কমলাপুর স্টেশনসহ নির্ধারিত কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট কেনা যায়।
এজেন্ট: অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমেও টিকিট পাওয়া যায়।
টিকিট বিক্রি শুরু হয় যাত্রার তারিখের ১০ দিন আগে থেকে। তবে ঈদ বা বিশেষ ছুটির সময় রেলওয়ে আলাদা সময়সূচিতে টিকিট বিক্রি করতে পারে। তাই আগে থেকে খোঁজ রাখা ভালো।
📌 জরুরি: টিকিট কেনার সময় সঠিক নাম, বয়স ও পরিচয়পত্রের তথ্য দিন। ভ্রমণের সময় সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখুন, কারণ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারে।
📍 যাত্রাবিরতির স্টেশন
মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ছাড়ার পর পথে ১১টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মধ্যবর্তী জেলার যাত্রীরাও সরাসরি ট্রেনে উঠে কক্সবাজার যেতে পারেন।
মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি
| ক্রম | স্টেশনের নাম | জেলা |
|---|---|---|
| ১ | বিমানবন্দর | ঢাকা |
| ২ | নরসিংদী | নরসিংদী |
| ৩ | ভৈরব বাজার | কিশোরগঞ্জ |
| ৪ | আশুগঞ্জ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| ৫ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| ৬ | আখাউড়া | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| ৭ | কসবা | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| ৮ | কুমিল্লা | কুমিল্লা |
| ৯ | লাকসাম | কুমিল্লা |
| ১০ | নাঙ্গলকোট | কুমিল্লা |
| ১১ | ফেনী | ফেনী |
* চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত এই ট্রেনটি কোনো স্টেশনে থামে না।
💡 মধ্যবর্তী স্টেশন থেকে ভ্রমণ
যদি আপনি নরসিংদী, কুমিল্লা বা ফেনী থেকে কক্সবাজার যেতে চান, তাহলে মহানগর এক্সপ্রেস আপনার জন্য সুবিধাজনক। এই স্টেশনগুলো থেকে সরাসরি ট্রেনে উঠে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই কক্সবাজার পৌঁছানো যায়।
❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনে কত সময় লাগে?
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনে যেতে সাধারণত সাড়ে ৯ ঘণ্টা থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। ট্রেনভেদে সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া কত?
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া শ্রেণিভেদে আনুমানিক ৬৮৫ টাকা থেকে ১,৫৭০ টাকা পর্যন্ত। শোভন চেয়ার সবচেয়ে সাশ্রয়ী, আর এসি বার্থ ও স্নিগ্ধা বেশি আরামদায়ক।
কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট কখন পাওয়া যায়?
বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রার তারিখের ১০ দিন আগে থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। তবে উৎসবের সময় আগে বুকিংয়ের সুযোগ থাকতে পারে।
কক্সবাজার ট্রেনে কি খাবার পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, দূরপাল্লার ট্রেনে খাবার ও পানির ব্যবস্থা থাকে। তবে নিজের পছন্দের শুকনো খাবার ও পানি সঙ্গে রাখা ভালো।
মহানগর এক্সপ্রেস কি কক্সবাজার যায়?
হ্যাঁ, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত রুটে চলাচল করছে। ট্রেনটি পথে ১১টি স্টেশনে থামে।
📝 জরুরি তথ্য ও শর্তাবলী
• সকল ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিবর্তনযোগ্য।
• Coxroom.com শুধুমাত্র তথ্য সরবরাহ করে; টিকিট বিক্রি বা রেলওয়ে সেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়।
• ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল সূত্র থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন।
• ট্রেনের সময় পরিবর্তন, বিলম্ব বা বাতিলের জন্য Coxroom.com দায়ী নয়।
• শিশুদের জন্য রেলওয়ের নির্ধারিত নিয়ম প্রযোজ্য।
লেখাটি যেভাবে বলে, সেভাবে সফর সাজান
এই ডিরেক্টরির আসল তালিকা — হোটেল বা সেবাদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। CoxRoom কোনো বুকিং নেয় না।
হোটেল
- Kabir Guest House Shaikat Residential Area , Cox's Bazar 4700
- Hotel Asia Residential Cox's Bazar 4700
- Royal Beach Resort Cox's Bazar 4700
অ্যাক্টিভিটি
সব অ্যাক্টিভিটি দেখুনদর্শনীয় স্থান
- Himchari National Park প্রকৃতি ও ঝরনা
- Laboni Beach সৈকত
- Inani Beach সৈকত ও প্রকৃতি