মুদ্রা
BDT USD মূল্য প্রতিটি প্রোভাইডারের দেওয়া হিসেবেই বাংলাদেশি টাকায় (BDT) দেখানো হয়েছে।

ভ্রমণ

মেরিন ড্রাইভ: কোথায় থামবেন, কত কিলোমিটার

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর উপকূলীয় সড়কপথগুলোর একটি। এক পাশে বঙ্গোপসাগর, অন্য পাশে সবুজ পাহাড়—এই ৮০ কিলোমিটার পথে রয়েছে হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেকসহ একাধিক স্টপেজ। এই গাইডে মেরিন ড্রাইভের সম্পূর্ণ রুট, কোথায় থামবেন, কী দেখবেন এবং কীভাবে যাবেন—সব তথ্য ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।

🛣️ মেরিন ড্রাইভ পরিচিতি

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ বাংলাদেশের দীর্ঘতম উপকূলীয় সড়ক, যা বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে নির্মিত। ২০১৭ সালের ৬ মে এই ৮০ কিলোমিটার সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় । বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে সড়কটি নির্মিত হয়।

মেরিন ড্রাইভ শুধু একটি সড়ক নয়—এটি একটি সম্পূর্ণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। সড়কের এক পাশে সাগরের ঢেউ আর অন্য পাশে পাহাড় ও ঝাউবনের সারি। ২০১৮ সালের ২৬ জুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই সড়কটিকে সংরক্ষিত পর্যটন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে।

💡 এক নজরে মেরিন ড্রাইভ

  • দৈর্ঘ্য: প্রায় ৮০ কিলোমিটার
  • শুরু: কলাতলী মোড়, কক্সবাজার
  • শেষ: শাপলা চত্বর, টেকনাফ
  • উদ্বোধন: ৬ মে ২০১৭
  • প্রধান স্টপেজ: হিমছড়ি, স্যালসা বিচ, রেজুখাল, ইনানী, পাটুয়ারটেক, টেকনাফ

📏 ৮০ কিমি রুট: কোথা থেকে কোথায়

মেরিন ড্রাইভের মূল রুট কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। পুরো সড়কটি তিনটি প্রধান ধাপে নির্মিত হয়েছে।

ধাপ রুট দৈর্ঘ্য
প্রথম ধাপকলাতলী থেকে ইনানী২৪ কিমি
দ্বিতীয় ধাপশিলখালী থেকে টেকনাফ সদর২৪ কিমি
তৃতীয় ধাপশিলখালী থেকে টেকনাফের সাবরাং৩২ কিমি

পুরো রুট ঘুরতে কত সময় লাগে

পুরো ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ ঘুরে দেখতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে এটি শুধু যাতায়াতের সময়। বিভিন্ন স্টপেজে থামা, খাবার খাওয়া এবং ছবি তোলার সময় এর সঙ্গে যোগ হবে। সময় কম থাকলে পুরো সড়ক না ঘুরে হিমছড়ি বা ইনানী পর্যন্ত গিয়েও ফিরে আসা যায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে কলাতলী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প চলমান। এছাড়া টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত আরও ১৭০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০ কিলোমিটারে দাঁড়াবে।

⚠️ মনে রাখবেন: সড়ক সংস্কার কাজের কারণে কিছু অংশে যান চলাচল ধীর হতে পারে। ভ্রমণের আগে স্থানীয়ভাবে রাস্তার অবস্থা জেনে নেওয়া ভালো।

📍 কোথায় থামবেন: প্রধান স্টপেজ

মেরিন ড্রাইভের প্রতিটি অংশের নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। নিচে প্রধান স্টপেজগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো।

১. হিমছড়ি

মেরিন ড্রাইভের প্রথম বড় স্টপেজ হিমছড়ি। এখানে রয়েছে ঝরনা এবং পাহাড়ের ওপর একটি viewpoint, যেখান থেকে সমুদ্রের panoramic দৃশ্য দেখা যায়। হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানও এখানে অবস্থিত। শুষ্ক মৌসুমে ঝরনার পানি কম থাকতে পারে, তবে পাহাড়ের ওপরের দৃশ্য সবসময়ই আকর্ষণীয়।

২. স্যালসা বিচ

হিমছড়ির পরের স্টপেজ স্যালসা বিচ। এখানে প্যারাসেইলিংয়ের সুবিধা আছে। সৈকতের পানি তুলনামূলক পরিষ্কার এবং শহরের skyline দেখা যায়।

৩. রেজুখাল

রেজুখাল একটি দৃশ্যমান স্থান যেখানে কায়াকিং করা যায়। শান্ত পানি ও সবুজ পরিবেশে কায়াকিংয়ের অভিজ্ঞতা বেশ আনন্দদায়ক।

৪. ইনানী বিচ

ইনানী বিচ মেরিন ড্রাইভের অন্যতম জনপ্রিয় স্টপেজ। এখানে প্রবাল পাথরের সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া যায়, বিশেষ করে জোয়ার-ভাটার সময় । শহরের центральных সৈকতের তুলনায় ইনানী তুলনামূলক শান্ত। প্রবাল পাথরে হাঁটার সময় সতর্কতা প্রয়োজন কারণ পাথর পিচ্ছিল ও ধারালো হতে পারে।

৫. পাটুয়ারটেক

ইনানীর কাছেই পাটুয়ারটেক। এটি তুলনামূলক কম ভিড়ের এবং শান্ত পরিবেশের সৈকত। পাথুরে উপকূল, সবুজ পাহাড় ও সমুদ্রের মিলিত দৃশ্য এখানে দেখা যায়। সূর্যাস্তের সময় পাটুয়ারটেকের দৃশ্য বিশেষভাবে সুন্দর।

৬. টেকনাফ

মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্ত টেকনাফ। এখানে শাহপরীর দ্বীপ ট্রানজিট পয়েন্ট এবং টেকনাফ ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে নাফ নদী ও মিয়ানমারের পাহাড় দেখা যায়। এছাড়া টেকনাফে ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ রয়েছে, যা স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের ভেতরে অবস্থিত।

অন্যান্য থামার জায়গা

  • ঝিনুক বাজার: মেরিন ড্রাইভের পাশে ঝিনুক ও সামুদ্রিক উপকরণের তৈরি স্মারক পাওয়া যায়।
  • কাঁকড়া সৈকত: হিমছড়ির পর প্যাচার দ্বীপ এলাকায় অবস্থিত, বাঁশ ও কাঠের পথ পেরিয়ে যেতে হয়।
  • সোনারপাড়া সৈকত: রেজুখাল ব্রিজ পেরিয়ে ঝাউবনে ঘেরা শান্ত সৈকত।
  • হলিউড হিল: টেকনাফ এলাকায় অবস্থিত, যেখান থেকে পুরো এলাকার panoramic দৃশ্য দেখা যায়।
স্টপেজ বিশেষ আকর্ষণ
হিমছড়িঝরনা, পাহাড়ের viewpoint, জাতীয় উদ্যান
স্যালসা বিচপ্যারাসেইলিং, পরিষ্কার পানি
রেজুখালকায়াকিং, শান্ত পরিবেশ
ইনানী বিচপ্রবাল পাথর, কম ভিড়
পাটুয়ারটেকশান্ত সৈকত, পাথুরে উপকূল
টেকনাফনাফ নদী, শাহপরীর দ্বীপ, মাথিনের কূপ

🚗 যাতায়াত ও ভাড়া

মেরিন ড্রাইভ ঘোরার জন্য কক্সবাজার শহর থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ভাড়া করা যায়। সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো চান্দের গাড়ি (ছাদখোলা জিপ), যা স্থানীয় ভাষায় "চান্দের গাড়ি" নামে পরিচিত।

যানবাহনের ধরন

  • চান্দের গাড়ি / ট্যুরিস্ট জিপ: একটি গাড়িতে সাধারণত ১০–১২ জন যেতে পারেন।
  • মাইক্রোবাস: বড় দলের জন্য উপযুক্ত।
  • অটোরিকশা: কম দূরত্বের জন্য বা কম খরচে ঘোরার জন্য।
  • মোটরবাইক: কলাতলী মোড়ে ভাড়ায় চালিত মোটরবাইক স্টেশন আছে।

আনুমানিক ভাড়া

মৌসুম অনুযায়ী চান্দের গাড়ির ভাড়া প্রায় ৬,০০০–৭,০০০ টাকা হতে পারে। ভাড়া যানবাহনের ধরন, দূরত্ব ও মৌসুমের ওপর নির্ভর করে। ভাড়া নেওয়ার আগে দর-কষাকষি করে নেওয়া এবং কোন কোন স্টপেজে থামানো হবে তা স্পষ্ট করে নেওয়া ভালো।

💡 যাতায়াতের টিপস

  • সকালে রওনা দিলে বেশি স্টপেজে থামার সময় পাবেন
  • ভাড়া নেওয়ার আগে স্টপেজের তালিকা ঠিক করে নিন
  • মৌসুম ও ছুটির দিনে ভাড়া বেশি হতে পারে
  • ফেরার সময় আগে থেকে ঠিক করে নিন

🛡️ নিরাপত্তা ও সতর্কতা

মেরিন ড্রাইভে ভ্রমণের সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাস্তার অবস্থা, সমুদ্রের অবস্থা এবং স্থানীয় নিয়মাবলি সম্পর্কে সচেতন থাকা ভালো।

সড়ক নিরাপত্তা

  • মেরিন ড্রাইভের কিছু অংশে রাস্তা সংস্কার কাজ চলছে—ধীর গতিতে চালান
  • চান্দের গাড়িতে উঠলে নিরাপদে বসুন, দাঁড়িয়ে ছবি তোলা এড়িয়ে চলুন
  • অতিরিক্ত গতি বা রেসিং করবেন না

সমুদ্রে সতর্কতা

  • ইনানী বা পাটুয়ারটেকে গোসলের সময় স্রোত সম্পর্কে সচেতন থাকুন
  • প্রবাল পাথরে হাঁটার সময় স্যান্ডেল বা জুতা পরুন
  • জোয়ারের সময় পাথরের কাছে যাবেন না
  • শিশুদের সর্বদা তত্ত্বাবধানে রাখুন

আবহাওয়া

বর্ষাকালে (জুন–সেপ্টেম্বর) মেরিন ড্রাইভে ভ্রমণ করলে আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। বৃষ্টি ও ঢেউ বেশি থাকলে সতর্কতা প্রয়োজন। শুষ্ক মৌসুম (অক্টোবর–মার্চ) ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক।

🚨 জরুরি: কোনো সমস্যা হলে স্থানীয় ট্যুরিস্ট পুলিশ বা প্রশাসনের সহায়তা নিন। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইন ৯৯৯-এ কল করতে পারেন।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা

মেরিন ড্রাইভ কত কিলোমিটার?

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার। এটি কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড় থেকে শুরু হয়ে টেকনাফের শাপলা চত্বরের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ।

মেরিন ড্রাইভে কোথায় কোথায় থামা যায়?

মেরিন ড্রাইভের প্রধান স্টপেজগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমছড়ি, স্যালসা বিচ, রেজুখাল, ইনানী বিচ, পাটুয়ারটেক এবং টেকনাফ। এছাড়া ঝিনুক বাজার, কাঁকড়া সৈকত ও সোনারপাড়া সৈকতও থামার জন্য জনপ্রিয় ।

পুরো মেরিন ড্রাইভ ঘুরতে কত সময় লাগে?

পুরো ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ ঘুরে দেখতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে স্টপেজে থামা, খাবার ও ছবি তোলার সময় বাদে এটি শুধু যাতায়াতের সময়।

মেরিন ড্রাইভে কীভাবে যাবেন?

কক্সবাজার পৌঁছে সুগন্ধা পয়েন্ট বা কলাতলী এলাকা থেকে চান্দের গাড়ি, ট্যুরিস্ট জিপ, মাইক্রোবাস বা অটোরিকশা ভাড়া করে মেরিন ড্রাইভে যাওয়া যায়। মৌসুম অনুযায়ী ভাড়া পরিবর্তিত হয় ।

📝 জরুরী তথ্য ও শর্তাবলী

• মেরিন ড্রাইভের দৈর্ঘ্য ও স্টপেজের তথ্য পরিবর্তনশীল হতে পারে—ভ্রমণের আগে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিন।

• সড়ক সংস্কার কাজের কারণে কিছু অংশে যান চলাচল প্রভাবিত হতে পারে ।

• যানবাহনের ভাড়া মৌসুম, দূরত্ব ও যানবাহনের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

• Coxroom.com শুধু তথ্য সরবরাহ করে; কোনো ভ্রমণ বা বুকিংয়ের দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের।

লেখাটি যেভাবে বলে, সেভাবে সফর সাজান

এই ডিরেক্টরির আসল তালিকা — হোটেল বা সেবাদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। CoxRoom কোনো বুকিং নেয় না।

হোটেল

সব হোটেল দেখুন

দর্শনীয় স্থান

সব দর্শনীয় স্থান দেখুন