মুদ্রা
BDT USD মূল্য প্রতিটি প্রোভাইডারের দেওয়া হিসেবেই বাংলাদেশি টাকায় (BDT) দেখানো হয়েছে।

ভ্রমণ

কক্সবাজারে কম বাজেটে ভ্রমণ: খরচ কমানোর উপায়

🏖️ কক্সবাজারে কম বাজেটে ভ্রমণ - সম্পূর্ণ গাইড

কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, ঝর্ণা, দ্বীপ — সব মিলিয়ে কক্সবাজার যেন এক টুকরো স্বর্গ। কিন্তু অনেকেই মনে করেন কক্সবাজার ভ্রমণ মানেই অনেক টাকা খরচ। আসলে সঠিক পরিকল্পনা ও কিছু টিপস জানা থাকলে খুব কম বাজেটেও কক্সবাজার ভ্রমণ করা সম্ভব।

এই পেজে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব কীভাবে কক্সবাজারে কম খরচে ভ্রমণ করা যায়। যাতায়াত, হোটেল, খাবার, ঘোরাঘুরি, শপিং — প্রতিটি ক্ষেত্রে খরচ কমানোর বাস্তব উপায় দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি শিক্ষার্থী হন, পরিবার নিয়ে যান, বা বন্ধুদের সাথে বাজেট ট্রিপের পরিকল্পনা করেন — এই গাইড আপনার জন্য।

💡 কেন কক্সবাজার বাজেট ট্রিপের জন্য সেরা?

  • প্রচুর বাজেট হোটেল: ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে হাজারো হোটেল ও গেস্ট হাউস।
  • সস্তা স্থানীয় খাবার: ভাত, ডাল, মাছ — মাত্র ৫০-১০০ টাকায় পেট ভরে খাওয়া যায়।
  • শেয়ারড যাতায়াত: বাস, ট্রেন, সিএনজি — সবই তুলনামূলক সস্তা।
  • ফ্রি দর্শনীয় স্থান: সৈকত, পাহাড়, বাজার — অনেক কিছু বিনামূল্যে ঘোরা যায়।
  • অফ-সিজন সুবিধা: বর্ষাকালে হোটেলের দাম অনেক কমে যায়।

মূল কথা: পরিকল্পনা করলেই কম খরচে কক্সবাজার ভ্রমণ সম্ভব।

কক্সবাজার ভ্রমণে প্রধান খরচের খাতগুলো কি কি?

কক্সবাজার ভ্রমণে সাধারণত নিচের খাতগুলোতে খরচ হয়:

  • যাতায়াত: ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়া-আসার খরচ (সবচেয়ে বড় খাত)।
  • থাকা: হোটেল বা গেস্ট হাউসের ভাড়া।
  • খাবার: দিনে ৩ বেলা খাওয়া ও স্ন্যাকস।
  • ঘোরাঘুরি: সিএনজি, বাস, জিপ, লঞ্চ ইত্যাদি।
  • শপিং: শুঁটকি, মিষ্টি, হস্তশিল্প ইত্যাদি।
  • অন্যান্য: টিকিট, গাইড, পার্কিং ইত্যাদি।

এই প্রতিটি খাতে যদি সামান্য হলেও সাশ্রয় করা যায়, তাহলে পুরো ট্রিপের খরচ অনেক কমে আসে। নিচে ধাপে ধাপে প্রতিটি খাতের খরচ কমানোর উপায় আলোচনা করা হয়েছে।

📝 ভ্রমণের আগে পরিকল্পনা ও বাজেট

কক্সবাজার ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো পরিকল্পনা। আগে থেকে পরিকল্পনা করলে খরচ অনেক কম হয় এবং ভ্রমণও হয় আনন্দদায়ক।

বাজেট ক্যালকুলেশন

প্রথমে ঠিক করুন কত দিন থাকবেন, কতজন যাবেন, কি কি দেখবেন। এরপর একটি আনুমানিক বাজেট তৈরি করুন। নিচে ২ দিনের একটি নমুনা বাজেট দেওয়া হলো:

খরচের খাত বাজেট (জনপ্রতি)
যাতায়াত (ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা)৮০০ - ১৫০০ টাকা
হোটেল (২ রাত)৬০০ - ১৫০০ টাকা
খাবার (২ দিন)৪০০ - ৮০০ টাকা
ঘোরাঘুরি২০০ - ৫০০ টাকা
শপিং২০০ - ৫০০ টাকা
মোট২২০০ - ৪৮০০ টাকা

কতজন যাবেন তা ঠিক করুন

একা যাওয়ার চেয়ে ২-৪ জন একসাথে গেলে খরচ অনেক কমে। কারণ হোটেল, সিএনজি, খাবার — সব ভাগ করা যায়। গ্রুপে গেলে জনপ্রতি খরচ প্রায় ৩০-৪০% কমে যায়।

অ্যাডভান্স বুকিং করুন

বাস, ট্রেন ও হোটেল আগে থেকে বুক করলে অনেক সময় কম দামে পাওয়া যায়। বিশেষ করে শীতকাল ও ছুটির দিনে অ্যাডভান্স বুকিং ছাড়া ভালো কিছু পাওয়া কঠিন।

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করুন

সানস্ক্রিন, সানগ্লাস, টুপি, ছাতা, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, প্রাথমিক ঔষধ — এসব কক্সবাজারে কিনতে গেলে বেশি দাম পড়ে। তাই নিজের সাথে নিয়ে যান।

⚠️ মনে রাখবেন: বর্ষাকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) সমুদ্র উত্তাল থাকে, তাই সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ থাকতে পারে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভ্রমণ করুন।

🚌 যাতায়াত খরচ কমানোর উপায়

কক্সবাজার ভ্রমণের সবচেয়ে বড় খরচ হলো যাতায়াত। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। নিচে বিভিন্ন যাতায়াতের উপায় ও খরচ কমানোর টিপস দেওয়া হলো।

বাসে যাওয়া

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো বাস। বিভিন্ন কোম্পানির বাস পাওয়া যায়। খরচ কমানোর জন্য:

  • নন-এসি বাস বেছে নিন: এসি বাসের চেয়ে নন-এসি বাস অনেক সস্তা।
  • শোভন চেয়ার ট্রেন: ট্রেনে শোভন চেয়ারে যাওয়া বাসের চেয়ে সস্তা হতে পারে।
  • অফ-সিজনে যান: বর্ষাকালে বাসের ভাড়া কম থাকে।
  • অনলাইন টিকিট: শাহজালাল, গ্রীন লাইন, সোহাগ, সেন্ট মার্টিন ইত্যাদি কোম্পানির অনলাইন টিকিট বুকিং করে ছাড় পেতে পারেন।
  • শেয়ারড মাইক্রোবাস: ৬-৮ জন মিলে মাইক্রোবাস ভাড়া করলে জনপ্রতি খরচ কম পড়ে।
যাতায়াতের মাধ্যম আনুমানিক ভাড়া (জনপ্রতি) সময়
নন-এসি বাস৮০০ - ১২০০ টাকা১০-১২ ঘণ্টা
এসি বাস১৫০০ - ২২০০ টাকা৯-১০ ঘণ্টা
ট্রেন (শোভন চেয়ার)৭০০ - ১০০০ টাকা১০-১২ ঘণ্টা
শেয়ারড মাইক্রোবাস১০০০ - ১৫০০ টাকা৮-১০ ঘণ্টা
এয়ার কন্ডিশনড কোচ১৮০০ - ২৫০০ টাকা৮-৯ ঘণ্টা

ট্রেনে যাওয়া

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাওয়া যায়। ট্রেনে শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা ক্লাসে গেলে খরচ অনেক কম হয়। তবে ট্রেনের টিকিট আগে থেকে বুক করতে হয়।

স্থানীয় যাতায়াত

কক্সবাজারে পৌঁছে স্থানীয় যাতায়াতের জন্য:

  • সিএনজি শেয়ার: একা সিএনজি না নিয়ে অন্য যাত্রীদের সাথে শেয়ার করুন।
  • টমটম: কম দূরত্বে টমটম বা ইজিবাইক ব্যবহার করুন।
  • হেঁটে যান: কক্সবাজার শহরের ভিতরে অনেক জায়গায় হেঁটে যাওয়া যায়।
  • বাস: হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়াটেক যাওয়ার জন্য স্থানীয় বাস ব্যবহার করুন।

💡 টিপস: কক্সবাজারে সিএনজি ভাড়া নিয়ে দরদাম করতে হয়। আগে থেকে ভাড়া জেনে নিন। একা না গিয়ে ৩-৪ জন মিলে গেলে ভাড়া ভাগ হয়ে যায়।

🏨 সস্তা হোটেল ও থাকার ব্যবস্থা

কক্সবাজারে থাকার ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এখানে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে হাজারো হোটেল, গেস্ট হাউস, রিসোর্ট ও হোমস্টে আছে। কম বাজেটে থাকার জন্য কিছু টিপস:

বাজেট হোটেল খোঁজার উপায়

  • কলাতলী এলাকা: এখানে অনেক বাজেট হোটেল ও গেস্ট হাউস আছে।
  • সুগন্ধা পয়েন্টের পিছনের গলি: কম দামে ভালো হোটেল পাওয়া যায়।
  • বাজার রোড ও লালকুঠি: সস্তা হোটেলের জন্য বিখ্যাত।
  • অফ-সিজন: বর্ষাকালে হোটেলের দাম অনেক কমে যায়।
  • অনলাইন বুকিং: Coxroom.com সহ বিভিন্ন সাইটে বাজেট হোটেল পাবেন।
হোটেলের ধরন আনুমানিক ভাড়া (প্রতি রাত) সুবিধা
গেস্ট হাউস৫০০ - ১০০০ টাকাফ্যান, শেয়ারড বাথ
বাজেট হোটেল১০০০ - ২০০০ টাকাএসি/নন-এসি, প্রাইভেট বাথ
মিড-রেঞ্জ হোটেল২০০০ - ৩৫০০ টাকাএসি, টিভি, রুম সার্ভিস
হোমস্টে৮০০ - ১৫০০ টাকাস্থানীয় পরিবেশ, খাবার

হোটেল ভাড়া কমানোর টিপস

  • সরাসরি হোটেলে গিয়ে দরদাম করুন — অনলাইনের চেয়ে কম দামে পাওয়া যায়।
  • একাধিক রাত থাকলে ছাড় চান।
  • গ্রুপে গেলে একসাথে কয়েকটি রুম বুক করে ছাড় নিন।
  • অফ-সিজনে গেলে ৫০% পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন।
  • সমুদ্রের দৃশ্য (সি ভিউ) রুম না নিয়ে সাধারণ রুম নিলে খরচ কম হয়।

💡 Coxroom.com থেকে বুক করুন

Coxroom.com-এ কক্সবাজারের শতাধিক বাজেট হোটেল ও গেস্ট হাউসের তথ্য পাবেন। অনলাইনে বুক করলে অনেক সময় বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়। বুকিংয়ের আগে রিভিউ দেখে নিন।

🍽️ খাবার খরচ কমানোর উপায়

কক্সবাজারে খাবারের খরচ অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব যদি আপনি স্থানীয় খাবারের দিকে মনোযোগ দেন। ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্ট এড়িয়ে স্থানীয় ভাতের হোটেল, রোড সাইড খাবার ও বাজার ব্যবহার করলে দিনে ২০০-৩০০ টাকায় পেট ভরে খাওয়া যায়।

সস্তা খাবারের জায়গা

  • স্থানীয় ভাতের হোটেল: ভাত, ডাল, মাছ, সবজি — মাত্র ৫০-১০০ টাকা।
  • শুঁটকি বাজার: শুঁটকি ভুনা, শুঁটকি ভর্তা — কম দামে পাওয়া যায়।
  • রোড সাইড খাবার: সিঙ্গারা, সমুচা, চপ, ঝালমুড়ি — ১০-৩০ টাকা।
  • ফলমূল: স্থানীয় বাজারে সস্তায় পাওয়া যায়।
  • সমুদ্র সৈকতের খাবার: চিপস, কোক, আইসক্রিম — দাম একটু বেশি, তাই নিজের পানি ও স্ন্যাকস নিয়ে যান।
খাবারের ধরন আনুমানিক দাম
ভাত + ডাল + মাছ/মাংস৫০ - ১২০ টাকা
শুঁটকি ভুনা৮০ - ১৫০ টাকা
পরোটা + ডিম + সবজি৩০ - ৫০ টাকা
সিঙ্গারা, সমুচা, চপ১০ - ৩০ টাকা
চা / কফি১০ - ২০ টাকা
ফ্রেশ জুস৩০ - ৮০ টাকা

খাবার খরচ কমানোর টিপস

  • ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্ট এড়িয়ে স্থানীয় হোটেলে খান।
  • নিজের বোতলে পানি নিয়ে যান — সৈকতে পানি কিনতে বেশি দাম লাগে।
  • সকালের নাস্তা হোটেলের বাইরে করলে কম পড়ে।
  • একসাথে কয়েকজন খেলে ভাগ করে খান — খরচ কমে।
  • স্থানীয় বাজার থেকে ফল, মুড়ি, চানাচুর কিনে রাখুন।

⚠️ সতর্কতা: অপরিচিত জায়গায় খাবার খাওয়ার আগে দেখে নিন তা ফ্রেশ কিনা। অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা খরচ বেড়ে যাবে।

🗺️ কম খরচে দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ

কক্সবাজারে অনেক দর্শনীয় স্থান আছে যা বিনামূল্যে বা খুব কম খরচে ঘোরা যায়। নিচে কিছু সস্তা দর্শনীয় স্থানের তালিকা দেওয়া হলো:

স্থান খরচ যাতায়াত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতবিনামূল্যেহেঁটে
হিমছড়ি২০ টাকা (প্রবেশ)সিএনজি/টমটম
ইনানী বিচবিনামূল্যেবাস/সিএনজি
পাটুয়াটেক বিচবিনামূল্যেবাস/সিএনজি
কক্সবাজার বাজারবিনামূল্যেহেঁটে
ফিশারি ঘাটবিনামূল্যেহেঁটে
মেরিন ড্রাইভবিনামূল্যেহেঁটে/গাড়ি

দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে খরচ কমানোর টিপস

  • সৈকতে হাঁটুন — একদম ফ্রি, সবচেয়ে আনন্দদায়ক।
  • হিমছড়ি যাওয়ার জন্য শেয়ারড সিএনজি নিন।
  • ইনানী, পাটুয়াটেক যেতে স্থানীয় বাস ব্যবহার করুন।
  • একসাথে কয়েকজন মিলে জিপ ভাড়া করলে খরচ কম পড়ে।
  • সানরাইজ ও সানসেট দেখার জন্য কোনো টাকা লাগে না।
  • গাইড ছাড়া ঘোরাঘুরি করুন — নিজেই ম্যাপ দেখে চলে যান।

💡 জেনে নিন

কক্সবাজারে অনেক ট্যুর গাইড আছে যারা বেশি টাকা নেয়। আপনি যদি নিজে থেকেই ঘোরাঘুরি করতে পারেন, তাহলে গাইড ছাড়াই সব দেখে ফেলতে পারবেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনে নিন কোন রুটে কম খরচে কোথায় যাওয়া যায়।

🛍️ শপিং ও কেনাকাটায় সাশ্রয়

কক্সবাজার থেকে অনেকেই শুঁটকি, মিষ্টি, হস্তশিল্প, পোশাক ইত্যাদি কিনে নিয়ে যান। কিন্তু সঠিক জায়গায় না কিনলে বেশি দাম পড়ে। নিচে শপিংয়ে খরচ কমানোর উপায় দেওয়া হলো।

সস্তায় শপিং করার জায়গা

  • শুঁটকি বাজার: কক্সবাজারের বিখ্যাত শুঁটকি বাজারে পাইকারি দামে পাওয়া যায়।
  • লালকুঠি বাজার: স্থানীয় হস্তশিল্প ও পোশাক পাওয়া যায়।
  • ফিশারি ঘাট: তাজা মাছ ও শুঁটকি কম দামে পাওয়া যায়।
  • বুরাবাজার: মিষ্টি ও স্থানীয় খাবার কেনার জন্য।

শপিংয়ে খরচ কমানোর টিপস

  • দরদাম করুন — পর্যটকদের কাছে প্রথমে বেশি দাম বলা হয়।
  • একসাথে কয়েকটি কিনলে ছাড় চান।
  • স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করে কিনুন — তারা ভালো দোকান দেখিয়ে দেবে।
  • প্যাকেজিং ও ডেলিভারির খরচ আগে থেকে জেনে নিন।
  • অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা এড়িয়ে চলুন।

💡 টিপস: শুঁটকি কিনলে ভালোভাবে শুকিয়ে প্যাক করে নিন, নইলে ঘরে এসে নষ্ট হয়ে যাবে। মিষ্টি কিনলে ফ্রেশ কিনা দেখে নিন।

📅 কোন সময়ে ভ্রমণ করলে খরচ কম

কক্সবাজারে ভ্রমণের সময় নির্ধারণ করলে খরচ অনেক কমিয়ে আনা যায়। নিচে সময়ভিত্তিক খরচের তুলনা দেওয়া হলো:

সময় খরচ মন্তব্য
নভেম্বর - ফেব্রুয়ারিউচ্চশীতকাল, পর্যটনের ভরা মৌসুম
মার্চ - মেমধ্যমগরম কিন্তু ভিড় কম
জুন - সেপ্টেম্বরকমবর্ষাকাল, হোটেল ভাড়া ৫০% কম
অক্টোবরমধ্যমশীতের শুরু, ভিড় কম

সবচেয়ে কম খরচে ভ্রমণ করতে চাইলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর (বর্ষাকাল) অথবা অক্টোবরের শুরুতে যান। এ সময় হোটেলের দাম অনেক কম থাকে এবং ভিড়ও কম হয়। তবে বর্ষাকালে সমুদ্র উত্তাল থাকায় সাঁতার কাটা যায় না, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

⚠️ সতর্কতা: বর্ষাকালে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা থাকে। ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার খবর দেখে নিন।

💡 খরচ কমানোর ২০টি টিপস

১. অফ-সিজনে ভ্রমণ করুন।
২. গ্রুপে যান, খরচ ভাগ করুন।
৩. বাজেট হোটেল বা গেস্ট হাউসে থাকুন।
৪. স্থানীয় ভাতের হোটেলে খান।
৫. শেয়ারড সিএনজি ব্যবহার করুন।
৬. হেঁটে ঘোরাঘুরি করুন।
৭. নিজের পানি ও স্ন্যাকস নিয়ে যান।
৮. অ্যাডভান্স টিকিট বুক করুন।
৯. নন-এসি বাস বা ট্রেনে যান।
১০. দরদাম করে কিনুন।
১১. গাইড ছাড়াই ঘুরুন।
১২. ফ্রি দর্শনীয় স্থান বেছে নিন।
১৩. রোড সাইড খাবার খান।
১৪. স্থানীয় বাজার থেকে ফল কিনুন।
১৫. অপ্রয়োজনীয় শপিং এড়িয়ে চলুন।
১৬. হোটেলে দরদাম করুন।
১৭. একাধিক রাত থাকলে ছাড় চান।
১৮. সি ভিউ রুম না নিন।
১৯. Coxroom.com থেকে বুক করুন।
২০. বাজেট অ্যাপে হিসাব রাখুন।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

কক্সবাজারে কম বাজেটে ভ্রমণ করা সম্ভব?

হ্যাঁ, সঠিক পরিকল্পনা, অফ-সিজন ভ্রমণ, বাজেট হোটেল, স্থানীয় খাবার ও শেয়ারড যাতায়াত ব্যবহার করে খুব কম খরচে ভ্রমণ করা সম্ভব।

কক্সবাজারে একদিনে কত টাকা লাগে?

কম বাজেটে দিনে ৮০০-১৫০০ টাকায় থাকা, খাওয়া ও ঘোরাঘুরি করা সম্ভব যদি বাজেট হোটেল ও স্থানীয় খাবার ব্যবহার করেন।

কক্সবাজারে সস্তা হোটেল কোথায় পাওয়া যায়?

কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্টের পিছনের গলি, বাজার রোড ও লালকুঠি এলাকায় ৫০০-১৫০০ টাকার মধ্যে ভালো বাজেট হোটেল পাওয়া যায়।

কক্সবাজার যাওয়ার সস্তা উপায় কি?

ঢাকা থেকে সস্তায় যেতে নন-এসি বাস, শোভন চেয়ার ট্রেন বা শেয়ারড মাইক্রোবাস ব্যবহার করা যায়।

কক্সবাজারে খাবার খরচ কমানোর উপায় কি?

স্থানীয় ভাতের হোটেল, রোড সাইড খাবার, শুঁটকি বাজার ও ফলমূল খেয়ে খরচ অনেক কমিয়ে আনা যায়।

কক্সবাজারে কোন সময়ে ভ্রমণ করলে খরচ কম হয়?

জুন থেকে সেপ্টেম্বর (বর্ষাকাল) এবং জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভ্রমণ করলে হোটেল ও যাতায়াতে খরচ অনেক কম হয়।

কক্সবাজারে ঘোরার জন্য কি কি সস্তা উপায় আছে?

সৈকতে হাঁটা, স্থানীয় বাজার ঘোরা, হিমছড়ি, ইনানী বিচ, পাটুয়াটেক বিচ ইত্যাদি কম খরচে ঘোরা যায়।

কক্সবাজার ভ্রমণে কত টাকা বাজেট রাখা উচিত?

২ দিনের ট্রিপে জনপ্রতি ২৫০০-৪০০০ টাকা বাজেট রাখলে কম খরচে ভালোভাবে ভ্রমণ করা যায়।

📝 জরুরী তথ্য ও শর্তাবলী

• সকল দাম ও সময়সূচি পরিবর্তন সাপেক্ষ।

• বর্ষাকালে সমুদ্র উত্তাল থাকলে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ।

• হোটেল বুকিংয়ের আগে রিভিউ দেখে নিন।

• স্থানীয় পরিবহনের ভাড়া আগে থেকে জেনে নিন।

• অপরিচিত গাইডের সাথে না যাওয়াই ভালো।

• মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখুন।

• পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন।

• জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল করুন।

• ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নিন।

• Coxroom.com শুধু তথ্য সরবরাহ করে, বুকিংয়ের দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের।

লেখাটি যেভাবে বলে, সেভাবে সফর সাজান

এই ডিরেক্টরির আসল তালিকা — হোটেল বা সেবাদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। CoxRoom কোনো বুকিং নেয় না।

হোটেল

সব হোটেল দেখুন

দর্শনীয় স্থান

সব দর্শনীয় স্থান দেখুন