মুদ্রা
BDT USD মূল্য প্রতিটি প্রোভাইডারের দেওয়া হিসেবেই বাংলাদেশি টাকায় (BDT) দেখানো হয়েছে।

ভ্রমণ

কক্সবাজার এক্সপ্রেস: সময়সূচি, ভাড়া ও সিট প্ল্যান

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক ও জনপ্রিয় রেলযোগাযোগ হলো কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৩/৮১৪)। এই গাইডে ট্রেনটির সম্পূর্ণ সময়সূচি, স্টেশনভিত্তিক সময়, কেবিন ও চেয়ার ভাড়া, সিট প্ল্যান এবং টিকিট সংক্রান্ত জরুরি তথ্য ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।

🚆 কক্সবাজার এক্সপ্রেস: ট্রেন পরিচিতি

কক্সবাজার এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি আন্তঃনগর ট্রেন, যা রাজধানী ঢাকা (কমলাপুর) এবং কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে চলাচল করে। ট্রেনটির নম্বর ৮১৩ (কক্সবাজার থেকে ঢাকা) এবং ৮১৪ (ঢাকা থেকে কক্সবাজার)।

ট্রেনটি সাধারণত ঢাকা থেকে রাত ১০:৩০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৭:২০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছায়। বিপরীত দিকে কক্সবাজার থেকে দুপুর ১২:৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ৯:০০-৯:১০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছায়। সম্পূর্ণ যাত্রায় প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪০ মিনিট থেকে ৮ ঘণ্টা ৫০ মিনিট সময় লাগে।

💡 এক নজরে কক্সবাজার এক্সপ্রেস

  • ট্রেন নম্বর: ৮১৩ (কক্সবাজার → ঢাকা) ও ৮১৪ (ঢাকা → কক্সবাজার)
  • রুট: ঢাকা (কমলাপুর) ↔ কক্সবাজার
  • প্রধান স্টপেজ: ঢাকা বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম
  • সাপ্তাহিক বন্ধ: ৮১৩ মঙ্গলবার, ৮১৪ সোমবার
  • শ্রেণি: শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি সিট), এসি সিট, এসি বার্থ

🕐 সময়সূচি ও স্টেশনভিত্তিক সময়

নিচের টেবিলে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের উভয় দিকের সময়সূচি দেওয়া হলো। সময় ও স্টপেজ পরিবর্তন সাপেক্ষ, তাই যাত্রার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

৮১৩: কক্সবাজার → ঢাকা

স্টেশন পৌঁছায় ছাড়ে
কক্সবাজার—১২:৩০ PM
চট্টগ্রাম০৩:৪০ PM০৪:০০ PM
ঢাকা বিমানবন্দর০৮:৩০ PM০৮:৩৩ PM
ঢাকা (কমলাপুর)০৯:০০ PM—

৮১৪: ঢাকা → কক্সবাজার

স্টেশন পৌঁছায় ছাড়ে
ঢাকা (কমলাপুর)—১০:৩০ PM
ঢাকা বিমানবন্দর১০:৫৩ PM১০:৫৮ PM
চট্টগ্রাম০৪:০০ AM০৪:২০ AM
কক্সবাজার০৭:২০ AM—

⚠️ মনে রাখবেন: ৮১৩ নম্বর ট্রেন মঙ্গলবার এবং ৮১৪ নম্বর ট্রেন সোমবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। সময়সূচি ও স্টপেজ যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাত্রার আগে অবশ্যই railway.gov.bd-এ যাচাই করুন।

💰 ভাড়ার তালিকা: কেবিন ও চেয়ার

কক্সবাজার এক্সপ্রেসে চারটি শ্রেণিতে টিকিট পাওয়া যায়। নিচের টেবিলে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত ভাড়া দেওয়া হলো। ভাড়া পরিবর্তন সাপেক্ষ, তাই বুকিংয়ের সময় অফিসিয়াল সাইটে চূড়ান্ত ভাড়া দেখে নিন।

শ্রেণি ধরন ভাড়া (আনুমানিক)
শোভন চেয়ারনন-এসি চেয়ার৬৯৫ টাকা
স্নিগ্ধাএসি চেয়ার১,৩২৫ টাকা
এসি সিটএসি চেয়ার১,৫৯০ টাকা
এসি বার্থএসি কেবিন/শোয়ার২,৩৮০ টাকা

উৎস: বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত ভাড়া, বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে উদ্ধৃত।

💡 ভাড়া সংক্রান্ত টিপস

  • শোভন চেয়ার সবচেয়ে সাশ্রয়ী, তবে রাতের যাত্রায় এসি শ্রেণি বেশি আরামদায়ক।
  • এসি বার্থ (কেবিন) সীমিত সংখ্যায় থাকে, তাই আগে থেকে বুক করা ভালো।
  • অনলাইন টিকিটে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
  • শিশু ও শিক্ষার্থী ভাড়ার জন্য রেলওয়ের নিয়ম প্রযোজ্য।

🪑 কেবিন ও চেয়ার সিট প্ল্যান

কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ১৬টি কোচ রয়েছে, যার মধ্যে একটি পাওয়ার কার এবং দুটি খাবার কোচ। মোট আসন সংখ্যা প্রায় ৭৮০-৭৫০। নিচে শ্রেণিভিত্তিক সিট ব্যবস্থার একটি সাধারণ ধারণা দেওয়া হলো।

শোভন চেয়ার (নন-এসি)

শোভন চেয়ারে সাধারণ চেয়ার ব্যবস্থা থাকে, প্রতি সারিতে ৩টি করে আসন। এটি সাশ্রয়ী ভ্রমণপ্রার্থীদের জন্য উপযুক্ত। তবে রাতের যাত্রায় আরাম কিছুটা কম হতে পারে।

স্নিগ্ধা ও এসি সিট

স্নিগ্ধা ও এসি সিট শ্রেণিতে এসি চেয়ার ব্যবস্থা থাকে। স্নিগ্ধা সাধারণত বেশি আসনবিশিষ্ট এসি কোচ, আর এসি সিট কিছুটা বেশি আরামদায়ক। উভয় শ্রেণিতেই প্রতি সারিতে ২+২ বা ৩+২ আসন বিন্যাস থাকতে পারে।

এসি বার্থ (কেবিন)

এসি বার্থ বা কেবিন শ্রেণিতে শোয়ার (বার্থ) সুবিধা থাকে। এটি রাতের যাত্রায় শুয়ে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। বার্থের সংখ্যা সীমিত, তাই এই শ্রেণির টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কেবিনে সাধারণত পর্দা, বালিশ ও চাদর সরবরাহ করা হয়।

ℹ️ সিট প্ল্যান সম্পর্কে: নির্দিষ্ট কোচ ও সিট নম্বরের বিস্তারিত প্ল্যান টিকিট বুকিংয়ের সময় অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে দেখা যায়। কোনো নির্দিষ্ট সিট নিশ্চিত করতে চাইলে আগে থেকে অনলাইনে বুক করুন।

🎫 টিকিট ও ভ্রমণ টিপস

✅ টিকিট বুকিং সংক্রান্ত পরামর্শ

  • ট্রেনের টিকিট অনলাইনে (eticket.railway.gov.bd) বা স্টেশন কাউন্টার থেকে কেনা যায়।
  • কক্সবাজার রুটে ভ্রমণপ্রার্থীর সংখ্যা বেশি, তাই কমপক্ষে ৭-১০ দিন আগে বুক করার চেষ্টা করুন।
  • এসি বার্থ বা কেবিন চাইলে আরও আগে বুক করুন, কারণ সীমিত সংখ্যক বার্থ থাকে।
  • বুকিংয়ের সময় যাত্রার তারিখ ও ট্রেন নম্বর (৮১৩/৮১৪) সঠিকভাবে যাচাই করুন।
  • টিকিটে উল্লিখিত স্টেশন ও সময় অনুযায়ী স্টেশনে পৌঁছান।

ভ্রমণের জন্য যা যা মনে রাখবেন

  • রাতের যাত্রার জন্য হালকা কম্বল বা শাল সাথে রাখতে পারেন, বিশেষ করে এসি কোচে।
  • খাবার ও পানির বোতল সাথে রাখুন; ট্রেনে খাবার কোচ থাকলেও নিজের পছন্দের স্ন্যাকস রাখা ভালো।
  • মোবাইল চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখুন।
  • কক্সবাজার পৌঁছে হোটেল বা গন্তব্যে যাওয়ার জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করুন।
  • ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাত্রার আগে railway.gov.bd-এ চূড়ান্ত তথ্য যাচাই করুন।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা

কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের নম্বর কত?

কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের নম্বর ৮১৩ (কক্সবাজার থেকে ঢাকা) এবং ৮১৪ (ঢাকা থেকে কক্সবাজার)।

কক্সবাজার এক্সপ্রেসে কি কেবিন সুবিধা আছে?

কক্সবাজার এক্সপ্রেসে এসি বার্থ (AC Berth) শ্রেণিতে কেবিন বা বার্থ সুবিধা রয়েছে। এছাড়া এসি সিট, স্নিগ্ধা এবং শোভন চেয়ার শ্রেণিও পাওয়া যায়। বার্থের সংখ্যা সীমিত, তাই আগে থেকে টিকিট কাটা ভালো।

কক্সবাজার এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটির দিন কোনটি?

৮১৩ নম্বর ট্রেন (কক্সবাজার থেকে ঢাকা) মঙ্গলবার বন্ধ থাকে এবং ৮১৪ নম্বর ট্রেন (ঢাকা থেকে কক্সবাজার) সোমবার বন্ধ থাকে।

কক্সবাজার এক্সপ্রেসে শোভন চেয়ার ভাড়া কত?

শোভন চেয়ার শ্রেণির ভাড়া সাধারণত ৬৯৫ টাকা। তবে ভাড়া পরিবর্তন হতে পারে, তাই টিকিট কেনার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাচাই করে নিন।

কক্সবাজার এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কখন ছাড়ে?

৮১৪ নম্বর ট্রেন ঢাকা (কমলাপুর) থেকে রাত ১০:৩০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৭:২০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছায়।

📝 জরুরি তথ্য ও শর্তাবলী

• সকল সময়সূচি, ভাড়া ও সিট ব্যবস্থা পরিবর্তন সাপেক্ষ। বাংলাদেশ রেলওয়ে যেকোনো সময় তা পরিবর্তন করতে পারে।

• Coxroom.com শুধু তথ্য সরবরাহ করে, টিকিট বুকিং বা রেলওয়ে সেবার দায়ভার বাংলাদেশ রেলওয়ের।

• যাত্রার আগে railway.gov.bd বা অফিসিয়াল টিকিট প্ল্যাটফর্মে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন।

• এই পেজের তথ্য সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য, কোনো নির্দিষ্ট ট্রেনের নিশ্চিত আসন বা ভাড়ার গ্যারান্টি নয়।

লেখাটি যেভাবে বলে, সেভাবে সফর সাজান

এই ডিরেক্টরির আসল তালিকা — হোটেল বা সেবাদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। CoxRoom কোনো বুকিং নেয় না।

হোটেল

সব হোটেল দেখুন

দর্শনীয় স্থান

সব দর্শনীয় স্থান দেখুন