মুদ্রা
BDT USD মূল্য প্রতিটি প্রোভাইডারের দেওয়া হিসেবেই বাংলাদেশি টাকায় (BDT) দেখানো হয়েছে।

ভ্রমণ

কক্সবাজার মিষ্টি ও নাস্তা: স্থানীয় দোকানের সেরা গাইড

কক্সবাজার ভ্রমণে সমুদ্রসৈকত, সি ফুড আর সূর্যাস্তের পাশাপাশি আরেকটি আনন্দ আছে — স্থানীয় মিষ্টি ও নাস্তার স্বাদ নেওয়া। শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে আছে দশকের পুরোনো মিষ্টির দোকান, সৈকতের পাশে ভ্রাম্যমাণ নাস্তার স্টল আর পাহাড়ি বাজারের পিঠা। এই গাইডে কক্সবাজারের স্থানীয় মিষ্টি ও নাস্তার সেরা দোকানগুলো, তাদের বিশেষত্ব এবং আনুমানিক দাম বিস্তারিত দেওয়া হলো।

🍬 ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান

কক্সবাজারে মিষ্টির ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। শহরের ভেতরে যেমন পুরোনো মিষ্টির দোকান আছে, তেমনি চকরিয়ার মতো দূরের এলাকাতেও আছে দশকের পর দশক ধরে টিকে থাকা মিষ্টির ভান্ডার।

১. পলস সুইট শপ (Paul's Sweet Shop)

কক্সবাজার শহরের হৃদয়ে অবস্থিত পলস সুইট শপ ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান। পূর্বে এটি জেকস অ্যান্ড পলস নামে পরিচিত ছিল। রসগোল্লা, ছানাপুলি ও চমচমের জন্য এই দোকান বিখ্যাত। দোকানের ভেতরের পরিবেশও বেশ পুরোনো ঢঙের — পুরোনো ছবি, কাঠের চেয়ার আর আড্ডার পরিবেশ। স্থানীয়রা বলেন, এখানে শুধু মিষ্টি নয়, অতীতের গল্পও পাওয়া যায়।

বিশেষত্ব: রসগোল্লা, ছানাপুলি, চমচম। অবস্থান: কক্সবাজার শহরের কেন্দ্র।

২. পাল মিষ্টি ভান্ডার (চকরিয়া)

কক্সবাজার শহর থেকে কিছুটা দূরে চকরিয়া উপজেলার হারবাং বাজারে অবস্থিত পাল মিষ্টি ভান্ডার। ৮২ বছর বয়সী উষা রঞ্জন পাল গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে কাঠের চুলায় মাটির হাঁড়িতে রসগোল্লা তৈরি করে আসছেন । ১৯৭২ সালে তিনি নিজের সঞ্চয় দিয়ে দোকানটি কিনে নেন।

এই দোকানের ব্যতিক্রমী নিয়ম হলো — রসগোল্লা কেজিতে নয়, প্রতি পিস ১২ টাকা দামে বিক্রি হয় । রসগোল্লার মূল উপাদান খাঁটি দুধের ছানা, সামান্য ময়দা, চিনি ও এলাচ। এক কেজি ছানার সঙ্গে মাত্র ২০ গ্রাম ময়দা মিশিয়ে কাঠের আগুনে দীর্ঘক্ষণ জ্বাল দিয়ে এই বিশেষ রসগোল্লা তৈরি হয়। এখানে শুধু রসগোল্লা আর মুচমচে নিমকি পাওয়া যায়।

বিশেষত্ব: রসগোল্লা (পিসপ্রতি ১২ টাকা), নিমকি। অবস্থান: হারবাং বাজার, চকরিয়া (কক্সবাজার শহর থেকে দূরে)।

💡 মিষ্টি কেনার টিপস

  • পাল মিষ্টি ভান্ডারে দেরি করে গেলে পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই আগে যান
  • পলস সুইট শপে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি পাওয়া যায়
  • মিষ্টি কেনার আগে দাম জিজ্ঞেস করে নিন

🥟 স্থানীয় নাস্তার ঠিকানা

কক্সবাজারের নাস্তার সংস্কৃতিতে আছে চট্টগ্রামের ঘরানার পেঁয়াজু, সৈকতের পাশে দই-চিড়া আর শীতকালের গুড়ের জিলাপি।

১. পেঁয়াজু ক্যাফে

সুগন্ধা বিচের কাছে হোটেল মিশুকের পাশে অবস্থিত একটি ছোট ক্যাফে — নাম পেঁয়াজু। চট্টগ্রামের নিজস্ব ভাষায় রাখা এই রেস্তোরাঁর নাম। এখানে মচমচে পেঁয়াজু, সমুচা, শিঙাড়া, চা, লইট্টা ফ্রাই ও স্কুইড ফ্রাই পাওয়া যায়। চালের গুঁড়া ব্যবহারের কারণে পেঁয়াজুর মচমচে স্বাদ আলাদা। সঙ্গে ধনেপাতা ও পুদিনার চাটনি দারুণ লাগে।

আনুমানিক দাম: এক বাটি পেঁয়াজু ৫০ টাকা (মালাই চাসহ)।

২. জিরো ভ্যালি (দই-চিড়া)

সুগন্ধা এলাকায় হোটেল সুইটি স্টের পাশে, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের গার্ডেনের কাছে অবস্থিত জিরো ভ্যালি। ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চালু হওয়া এই ছোট দোকানটি দই-চিড়ার জন্য পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় নারকেল ও আখের গুড় ব্যবহার করা হয় এখানে।

জিরো ভ্যালিতে মোট নয়টি খাবার ও পানীয় পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে বিফ-মিল্ক টি (৩০ টাকা), গ্রিন টি (১০ টাকা), হ্যান্ডমেড কফি (৬০ টাকা), দই-চিড়া (৭০ টাকা), দই (৭০ টাকা), দইয়ের শরবত (৭০ টাকা), সেমাই (৬০ টাকা) ও ফিরনি (৬০ টাকা)। টেকঅ্যাওয়ের জন্য প্রতি আইটেমে অতিরিক্ত ১০ টাকা লাগে।

বিশেষত্ব: দই-চিড়া (৭০ টাকা)। অবস্থান: সুগন্ধা, হোটেল সুইটি স্টের পাশে।

৩. গুড়ের জিলাপি

কক্সবাজারে গুড়ের জিলাপি স্থানীয় ও পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। কলাতলী বিচ এলাকা, কলাতলী বাজার ও গুঙ্গাছতলা এলাকায় এটি পাওয়া যায়। চিনির বদলে গুড় দিয়ে তৈরি এই জিলাপির স্বাদ আলাদা — বাইরে মুচমচে, ভেতরে রসালো। শীতকালে এটি বেশি জনপ্রিয়।

আনুমানিক দাম: ২২০-৩০০ টাকা প্রতি কেজি।

💡 নাস্তার টিপস

  • পেঁয়াজু ক্যাফে সন্ধ্যায় ভিড় হয়, একটু আগে যান
  • জিরো ভ্যালির দই-চিড়া বিকেলের দিকে বেশি পাওয়া যায়
  • গুড়ের জিলাপি শীতে বেশি ভালো লাগে

🍡 সৈকতের ভ্রাম্যমাণ খাবার

কক্সবাজার সৈকতে হাঁটলে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানি ও স্টল দেখতে পাবেন। এগুলো স্থানীয় স্বাদের পরিচয় দেয়।

  • মুড়ি ভর্তা: সৈকতের পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকানে পাওয়া যায়। মুড়ির সঙ্গে বিভিন্ন মসলা ও ভর্তা মিশিয়ে তৈরি।
  • আনারকলি (প্যাশন ফ্রুট): সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা বিক্রি করেন। একটি বড় পাকা আনারকলি আনুমানিক ৫০ টাকায় পাওয়া যায়। বিটলবণ, মরিচগুঁড়া ও জিরাগুঁড়া মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।
  • নারকেল: সৈকতে তাজা ডাব পাওয়া যায়।
  • পাহাড়ি বাজার: বার্মিজ স্কুলের পাশের রাস্তায় মঙ্গল ও শনিবার বসে। এখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা পাহাড়ি শাক-সবজি, ফল, মিষ্টি আলু ও নানা রকম পিঠা বিক্রি করেন।

💡 ভ্রাম্যমাণ খাবারে সতর্কতা

  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখে কিনুন
  • দাম আগে জিজ্ঞেস করুন
  • কাঁচা বা খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন

💰 দামের সারসংক্ষেপ

নিচের টেবিলে কক্সবাজারের মিষ্টি ও নাস্তার আনুমানিক দাম দেওয়া হলো।

খাবারের নাম দোকান আনুমানিক দাম
রসগোল্লা (প্রতি পিস)পাল মিষ্টি ভান্ডার১২ টাকা
রসগোল্লা, ছানাপুলি, চমচমপলস সুইট শপদোকানে যাচাই করুন
পেঁয়াজু (এক বাটি)পেঁয়াজু ক্যাফে৫০ টাকা
দই-চিড়াজিরো ভ্যালি৭০ টাকা
গুড়ের জিলাপি (প্রতি কেজি)কলাতলী এলাকা২২০-৩০০ টাকা
আনারকলি (একটি)সৈকতের ভ্রাম্যমাণ দোকান৫০ টাকা

* দাম আনুমানিক এবং পরিবর্তনশীল।

✅ কেনার টিপস

  • স্থানীয় দোকান বেছে নিন: পুরোনো ও পরিচিত দোকানে মান ভালো পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • দাম আগে জিজ্ঞেস করুন: বিশেষ করে ভ্রাম্যমাণ দোকানে দাম আগে নিশ্চিত করুন।
  • তাজা কিনুন: মিষ্টি ও নাস্তা তাজা কিনতে চাইলে সকালে বা বিকেলের দিকে যান।
  • পরিচ্ছন্নতা দেখুন: খোলা বা ধুলোময় পরিবেশে খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • প্যাকিং: মিষ্টি বা জিলাপি দূরে নিয়ে যেতে চাইলে ভালোভাবে প্যাক করিয়ে নিন।

⚠️ মনে রাখবেন: এই পেজে দেওয়া দাম ও দোকানের তথ্য আনুমানিক এবং সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। যাওয়ার আগে দোকানের অবস্থা যাচাই করে নেওয়া ভালো।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা

কক্সবাজারের বিখ্যাত মিষ্টির দোকান কোনটি?

কক্সবাজার শহরে পলস সুইট শপ (Paul's Sweet Shop) একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান, যা ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত। এটি রসগোল্লা, ছানাপুলি ও চমচমের জন্য বিখ্যাত। এছাড়া চকরিয়ার হারবাং বাজারে পাল মিষ্টি ভান্ডার দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে কাঠের চুলায় রসগোল্লা তৈরি করে আসছে।

কক্সবাজারে স্থানীয় নাস্তা কোথায় পাওয়া যায়?

কক্সবাজারে স্থানীয় নাস্তার জন্য সুগন্ধা বিচের কাছে পেঁয়াজু ক্যাফে জনপ্রিয়। এখানে মচমচে পেঁয়াজু, সমুচা, শিঙাড়া, চা ও লইট্টা ফ্রাই পাওয়া যায়। এছাড়া সৈকতের পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকানে মুড়ি ভর্তা, আনারকলি ও নারকেল পাওয়া যায়।

জিরো ভ্যালি কক্সবাজারে কী জন্য বিখ্যাত?

জিরো ভ্যালি সুগন্ধা এলাকায় অবস্থিত একটি ছোট দোকান, যা দই-চিড়ার (doi-chira) জন্য পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয়। এখানে দই-চিড়া আনুমানিক ৭০ টাকায় পাওয়া যায়। এছাড়া দই, দইয়ের শরবত, সেমাই ও ফিরনি পাওয়া যায়।

কক্সবাজারে গুড়ের জিলাপি কোথায় পাওয়া যায়?

কক্সবাজারে গুড়ের জিলাপি মূলত কলাতলী বিচ এলাকা, কলাতলী বাজার ও গুঙ্গাছতলা এলাকায় পাওয়া যায়। এর দাম আনুমানিক ২২০ থেকে ৩০০ টাকা প্রতি কেজি। শীতকালে এটি বেশি জনপ্রিয়।

কক্সবাজারে মিষ্টি ও নাস্তার দাম কেমন?

দাম দোকান ও পণ্য অনুযায়ী ভিন্ন। পাল মিষ্টি ভান্ডারে রসগোল্লা প্রতি পিস ১২ টাকায় বিক্রি হয়। জিরো ভ্যালিতে দই-চিড়া আনুমানিক ৭০ টাকা। পেঁয়াজু ক্যাফেতে এক বাটি পেঁয়াজু আনুমানিক ৫০ টাকা। গুড়ের জিলাপি আনুমানিক ২২০-৩০০ টাকা প্রতি কেজি।

📝 জরুরি তথ্য

• এই পেজে দেওয়া সব দাম আনুমানিক এবং পরিবর্তনশীল।

• দোকানের অবস্থা ও পণ্যের মান সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে।

• Coxroom.com শুধু তথ্য সরবরাহ করে; কেনাকাটার সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীর নিজস্ব।

• খাবারে অ্যালার্জি থাকলে আগে জিজ্ঞেস করে নিন।

লেখাটি যেভাবে বলে, সেভাবে সফর সাজান

এই ডিরেক্টরির আসল তালিকা — হোটেল বা সেবাদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। CoxRoom কোনো বুকিং নেয় না।

হোটেল

সব হোটেল দেখুন

দর্শনীয় স্থান

সব দর্শনীয় স্থান দেখুন