সারাদেশ ভ্রমণ

লঞ্চের সময়সূচি: হাব ও রুট ভিত্তিক আনুমানিক তালিকা

নদীপথে যাত্রার আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—লঞ্চ কখন ছাড়ে? বাংলাদেশে কোনো একক জাতীয় লঞ্চ সময়সূচি নেই। প্রতিটি বেসরকারি লঞ্চ কোম্পানি নিজের ছাড়ার সময় নির্ধারণ করে এবং ঋতু, নদীর অবস্থা ও যাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী তা বদলায় । এই গাইডে ঢাকার সদরঘাট হাব থেকে প্রধান রুটগুলো—হাতিয়া, ভোলা, বরিশাল, চাঁদপুর ও পটুয়াখালীর আনুমানিক সময়সূচি ও ভাড়া সাজানো হলো। মনে রাখবেন, এগুলো পরিকল্পনার রেফারেন্স; চূড়ান্ত সময় ও ভাড়া ছাড়ার আগে অবশ্যই যাচাই করে নিন।

🚢 লঞ্চ হাব: এক নজরে

ঢাকা থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় সব লঞ্চ পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ছাড়ে । এখান থেকেই বরিশাল, ভোলা, হাতিয়া, চাঁদপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনার লঞ্চ চলাচল করে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার লঞ্চ ছাড়ে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযানের রুট পারমিট ও সময়সূচি জারি করে, তবে কোনো একক জাতীয় সময়সূচি প্রকাশ করে না । ফলে প্রতিটি লঞ্চ কোম্পানির নিজস্ব সময় ও ভাড়া অনুসরণ করতে হয়। ভোলা, হাতিয়া ও সন্দ্বীপ দ্বীপ এলাকা—এখানে কোনো সড়কপথ নেই, তাই লঞ্চই একমাত্র সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম।

হাব প্রধান গন্তব্য আনুমানিক যাত্রাসময়
সদরঘাট (ঢাকা) বরিশাল, ভোলা, হাতিয়া, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ৯–১২ ঘণ্টা
চট্টগ্রাম সন্দ্বীপ, হাতিয়া রুটভেদে

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: এই গাইডের সব সময় ও ভাড়া আনুমানিক এবং বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে। কোনো লঞ্চ কোম্পানি ছাড়ার আগে সময় পরিবর্তন করতে পারে। টিকিট কাটার আগে ঘাটে বা অপারেটরের সাথে ফোনে যাচাই করুন।

🏝️ সদরঘাট → হাতিয়া সময়সূচি

ঢাকা থেকে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ৬টি লঞ্চ চলাচল করে। প্রথম লঞ্চটি বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে এবং শেষটি সন্ধ্যা ৬টায় ছাড়ে। লঞ্চগুলো পরদিন সকালে হাতিয়ার তমরদ্দী ঘাটে পৌঁছায়।

লঞ্চ ছাড়ার সময় (আনুমানিক)
এমভি তাসরিফ ১বিকাল ৫:৩০
এমভি তাসরিফ ২সন্ধ্যা ৬:০০
এমভি পানামা ২প্রকাশিত হয়নি
এমভি টিপু ৫প্রকাশিত হয়নি
এমভি ফারহান ৩প্রকাশিত হয়নি
এমভি ফারহান ৪প্রকাশিত হয়নি

ভাড়া: ডেক ২৫০–৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১,২০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২,২০০ টাকা। হাতিয়া থেকে নিঝুম দ্বীপে যেতে হলে ছোট নৌকায় যেতে হয় এবং জোয়ারের ওপর নির্ভর করে—তাই হাতিয়ায় রাত কাটিয়ে পরদিন নিঝুম দ্বীপে যাওয়া ভালো।

🚤 সদরঘাট → ভোলা সময়সূচি

ঢাকা থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশ্যে ৪টি লঞ্চ চলাচল করে। লঞ্চগুলো সন্ধ্যায় ছাড়ে এবং যাত্রাসময় প্রায় ১০ ঘণ্টা।

লঞ্চ ছাড়ার সময় (আনুমানিক)
এমভি কর্ণফুলী ১০সন্ধ্যা ৭:০০
এমভি কর্ণফুলী ৪সন্ধ্যা ৭:৩০
এমভি কর্ণফুলী ৯সন্ধ্যা ৭:৩০
এমভি কর্ণফুলী ১১সন্ধ্যা ৭:৩০

ভাড়া: ডেক ৪৫০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১,২০০–১,২৫০ টাকা, ডাবল কেবিন ২,৪০০–২,৫০০ টাকা, ভিআইপি কেবিন ৪,৫০০–৪,৮০০ টাকা ।

🌊 সদরঘাট → বরিশাল সময়সূচি

ঢাকা থেকে বরিশাল রুটে ১৩টি লঞ্চ চলাচল করে এবং যাত্রাসময় প্রায় ৯ ঘণ্টা। লঞ্চগুলো সাধারণত রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ছাড়ে ।

লঞ্চ ছাড়ার সময় (আনুমানিক)
এমভি পারাবত ১২রাত ৮:৩০
এমভি সুন্দরবন ১৬রাত ৮:৩০
এমভি কীর্তনখোলা ১০রাত ৮:৩০
এমভি মানামীরাত ৯:০০

ভাড়া: ডেক ৩৫০–৪০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১,২০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২,৪০০ টাকা, ফ্যামিলি/ভিআইপি কেবিন ৪,৫০০–৮,০০০ টাকা পর্যন্ত ।

⛵ সদরঘাট → চাঁদপুর সময়সূচি

ঢাকা থেকে চাঁদপুর রুটে প্রতিদিন ২০টি লঞ্চ চলাচল করে—দিনের প্রথমটি রাত ১২টায় এবং শেষটি রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ছাড়ে।

লঞ্চ ছাড়ার সময় (আনুমানিক)
এমভি রফ রফরাত ১২:০০
এমভি সোনার তরীসকাল ৭:২০
এমভি মেঘনা রানীসকাল ৮:০০
এমভি ইমাম হাসান ২সকাল ১১:০০
এমভি ঈগল ২/৩দুপুর ২:৩০
এমভি আব-এ-জমজমরাত ১১:৩০

ভাড়া: ডেক ১০০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির চেয়ার ১৩০–১৫০ টাকা, প্রথম শ্রেণির এসি চেয়ার ২২০–২৫০ টাকা, বিজনেস ক্লাস ২৭০ টাকা, একক কেবিন ৪০০–৫০০ টাকা, দ্বৈত কেবিন ৮০০–৯০০ টাকা, ভিআইপি কেবিন ১,০০০–২,০০০ টাকা।

🚢 সদরঘাট → পটুয়াখালী সময়সূচি

ঢাকা থেকে পটুয়াখালী রুটে এমভি সুন্দরবন ১৪ প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় সদরঘাট থেকে ছাড়ে এবং যাত্রাসময় প্রায় ১১ ঘণ্টা।

লঞ্চ ছাড়ার সময় (আনুমানিক)
এমভি সুন্দরবন ১৪সন্ধ্যা ৭:০০

ভাড়া: ডেক ৫০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১,৪০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২,৮০০ টাকা, ভিআইপি কেবিন ৬,০০০ টাকা।

💡 লঞ্চযাত্রার টিপস

টিকিট বুকিং

  • কেবিন আগে থেকে ফোনে বা ঘাটে গিয়ে বুক করুন—ঈদ ও ছুটিতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে ।
  • ডেকের টিকিট সাধারণত ছাড়ার দিন ঘাটে পাওয়া যায়, তবে আগে থেকে রিজার্ভ করা যায় না।
  • টিকিট কেনার আগে অপারেটরের সাথে সময় ও ভাড়া যাচাই করুন।

নিরাপত্তা

  • লঞ্চ যদি পানিতে বেশি নিচু দেখায় বা ডেক পূর্ণ হওয়ার পরেও যাত্রী তোলে, তবে এড়িয়ে চলুন।
  • লাইফ জ্যাকেট কোথায় আছে জেনে নিন এবং প্রয়োজনে চেয়ে নিন।
  • ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কুয়াশায় রাতের লঞ্চ কখনো ঘাটে দেরি করে ছাড়তে পারে—এটি নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত।

⚠️ সতর্কতা: ঈদ ও বড় ছুটির সময় লঞ্চে অতিরিক্ত ভিড় হয়। ভিড়ের সময় নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলুন এবং অস্বাভাবিক অবস্থা দেখলে ঘাট কর্মকর্তাকে জানান।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা

ঢাকা থেকে হাতিয়া লঞ্চ কখন ছাড়ে?

ঢাকা সদরঘাট থেকে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ৬টি লঞ্চ চলাচল করে। প্রথমটি বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে এবং শেষটি সন্ধ্যা ৬টায় ছাড়ে। এমভি তাসরিফ ১ ও ২ নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়ে, অন্য লঞ্চগুলোর সময় আলাদাভাবে জানতে হয়।

ঢাকা থেকে ভোলা লঞ্চের সময়সূচি কী?

ঢাকা সদরঘাট থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশ্যে লঞ্চগুলো সন্ধ্যায় ছাড়ে। এমভি কর্ণফুলী ১০ সন্ধ্যা ৭টায় এবং কর্ণফুলী ৪, ৯ ও ১১ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ছাড়ে। যাত্রাসময় প্রায় ১০ ঘণ্টা।

সদরঘাট থেকে বরিশাল লঞ্চ কখন ছাড়ে?

ঢাকা সদরঘাট থেকে বরিশালগামী লঞ্চগুলো সাধারণত রাত ৮টা থেকে ৯টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ছাড়ে। এমভি পারাবত ১২ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে, এমভি মানামী রাত ৯টায় ছাড়ে। যাত্রাসময় প্রায় ৯-১০ ঘণ্টা।

লঞ্চের সময়সূচি কি নির্ভুল?

না, বাংলাদেশে কোনো একক জাতীয় লঞ্চ সময়সূচি নেই। প্রতিটি বেসরকারি লঞ্চ কোম্পানি নিজের সময় নির্ধারণ করে এবং ঋতু, নদীর অবস্থা ও যাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী তা পরিবর্তন করে। তাই ছাড়ার আগে ঘাটে বা অপারেটরের সাথে ফোনে যাচাই করা জরুরি।

ঈদে লঞ্চের টিকিট আগে থেকে কিনতে হয়?

হ্যাঁ, ঈদ ও বড় ছুটির সময় লঞ্চে প্রচুর ভিড় হয় এবং কেবিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকে কেবিন বুকিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ডেকের টিকিট সাধারণত ছাড়ার দিন ঘাটে পাওয়া যায়।

📝 জরুরি তথ্য ও শর্তাবলী

• এই গাইডের সব সময় ও ভাড়া আনুমানিক এবং বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে। বাংলাদেশে কোনো একক জাতীয় লঞ্চ সময়সূচি নেই—প্রতিটি কোম্পানি নিজের সময় নির্ধারণ করে ।

• Coxroom.com শুধু তথ্য সরবরাহ করে। কোনো লঞ্চ কোম্পানির টিকিট বুকিং, পেমেন্ট বা সেবার মানের দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের।

• ছাড়ার আগে ঘাটে বা অপারেটরের সাথে ফোনে সময় ও ভাড়া যাচাই করা জরুরি। ওয়েবসাইটে পুরনো তথ্য থাকতে পারে।

• ঈদ ও ছুটির সময় কেবিন আগে থেকে বুক করুন। ডেকের টিকিট ছাড়ার দিন ঘাটে পাওয়া যায়।

• লঞ্চযাত্রায় নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলুন এবং অতিরিক্ত ভিড়ের সময় সতর্ক থাকুন।

লেখাটি যেভাবে বলে, সেভাবে সফর সাজান

এই ডিরেক্টরির আসল তালিকা — হোটেল বা সেবাদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। CoxRoom কোনো বুকিং নেয় না।

হোটেল

সব হোটেল দেখুন

দর্শনীয় স্থান

সব দর্শনীয় স্থান দেখুন
সব লেখা দেখুন