মুদ্রা
মূল্য প্রতিটি প্রোভাইডারের দেওয়া হিসেবেই বাংলাদেশি টাকায় (BDT) দেখানো হয়েছে।

ভ্রমণ

সেন্ট মার্টিনের অপর নাম কি? নারিকেল জিঞ্জিরার ইতিহাস

সেন্ট মার্টিন—বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। কিন্তু এই দ্বীপটির আরও একটি পরিচিত নাম আছে, যা অনেকেই জানেন না। অনেকেই প্রশ্ন করেন—সেন্ট মার্টিনের অপর নাম কি? এই গাইডে দ্বীপের স্থানীয় ও ঐতিহাসিক নাম, নামের উৎপত্তির ইতিহাস এবং কীভাবে এটি সেন্ট মার্টিন নামে পরিচিত হলো—সবকিছু তুলে ধরা হলো।

💡 সংক্ষেপে: সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অপর নাম নারিকেল জিঞ্জিরা (Narikel Jinjira)। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে এই নামটি প্রচলিত। এছাড়া জিঞ্জিরা, নারকেল জিঞ্জিরা এবং দারুচিনি দ্বীপ নামেও এটি পরিচিত ছিল। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ব্রিটিশ ভূ-জরীপ দল খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে 'সেন্ট মার্টিন' নামটি প্রদান করে।

🏝️ সেন্ট মার্টিনের অপর নাম

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সবচেয়ে পরিচিত অপর নাম হলো নারিকেল জিঞ্জিরা। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, "প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে"। শিক্ষক বাতায়নের নিবন্ধেও একই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

ইংরেজিতে এই নামটি Narikel Jinjira বা Narikel Jinjera হিসেবে লেখা হয়। একাডেমিক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয়রা বাংলায় দ্বীপটিকে 'নারিকেল জিঞ্জিরা' বা 'নারিকেল জিনজিরা' নামে ডাকে, যার অর্থ 'কোকোনাট আইল্যান্ড' বা 'নারকেল দ্বীপ' । জেনোডো-তে প্রকাশিত গবেষণাপত্রেও সেন্ট মার্টিনকে স্থানীয়ভাবে 'নারিকেল জিঞ্জিরা' (নারকেল দ্বীপ) নামে অভিহিত করা হয়েছে।

নাম অর্থ / উৎপত্তি সূত্র
নারিকেল জিঞ্জিরা নারকেল দ্বীপ (Coconut Island) বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন
জিঞ্জিরা আরব বণিকদের দেওয়া প্রাচীন নাম শিক্ষক বাতায়ন
দারুচিনি দ্বীপ দারুচিনি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি একাডেমিক গবেষণা
সেন্ট মার্টিন খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে শিক্ষক বাতায়ন

ℹ️ জানুন: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, "প্রথম কিছু আরব বণিক এই দ্বীপটির নামকরণ করেছিল জিঞ্জিরা"। কালক্রমে চট্টগ্রাম এবং তৎসংলগ্ন মানুষ এই দ্বীপটিকে জিঞ্জিরা নামেই চিনতো।

📖 নারিকেল জিঞ্জিরা নামের অর্থ

'নারিকেল জিঞ্জিরা' নামটির আক্ষরিক অর্থ হলো নারকেল দ্বীপ বা কোকোনাট আইল্যান্ড। ইংরেজিতে এটিকে 'Coconut Island' বলা হয়। দ্বীপে প্রচুর নারকেল গাছ থাকার কারণেই স্থানীয়দের কাছে এই নামটি প্রচলিত হয়েছে।

শিক্ষক বাতায়নের নিবন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, বাঙালি জেলেরা জলকষ্ঠ এবং ক্লান্তি দূরীকরণের অবলম্বন হিসেবে প্রচুর পরিমাণ নারকেল গাছ এই দ্বীপে রোপণ করেছিল। কালক্রমে পুরো দ্বীপটি একসময় 'নারকেল গাছ প্রধান' দ্বীপে পরিণত হয়। এই সূত্রে স্থানীয় অধিবাসীরা এই দ্বীপের উত্তরাংশকে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে অভিহিত করা শুরু করে।

💡 নামের ব্যাখ্যা

  • নারিকেল = নারকেল (Coconut)
  • জিঞ্জিরা = দ্বীপ বা দ্বীপপুঞ্জ (আরবি উৎস থেকে আগত)
  • সামগ্রিক অর্থ = নারকেল দ্বীপ

📜 নামের ইতিহাস

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নামের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও শিক্ষক বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে কিছু আরব বণিক এই দ্বীপটির নামকরণ করেছিল জিঞ্জিরা । তারা চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যাতায়াতের সময় এই দ্বীপটিতে বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করতো।

কালক্রমে চট্টগ্রাম এবং তৎসংলগ্ন মানুষ এই দ্বীপটিকে জিঞ্জিরা নামেই চিনতো। এরপর ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে কিছু বাঙালি এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ এই দ্বীপে বসতি স্থাপন শুরু করে। তারা মূলত মৎস্যজীবি ছিল।

ধীরে ধীরে বাঙালি জেলেরা দ্বীপে প্রচুর নারকেল গাছ রোপণ করে। ফলে দ্বীপটি 'নারকেল গাছ প্রধান' দ্বীপে পরিণত হয়। এই কারণে স্থানীয় অধিবাসীরা দ্বীপের উত্তরাংশকে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে অভিহিত করতে শুরু করে। বর্তমানেও দ্বীপের উত্তরাঞ্চলীয় অংশকে 'নারিকেল জিঞ্জিরা' বা 'উত্তর পাড়া' বলা হয়।

💡 ইতিহাসের ধারা

  • প্রাচীন যুগ: আরব বণিকদের দ্বারা 'জিঞ্জিরা' নামকরণ।
  • ১৮৯০-এর দিকে: বাঙালি ও রাখাইন মৎস্যজীবীদের বসতি স্থাপন; নারকেল গাছ রোপণ।
  • পরবর্তী সময়: নারকেল গাছের আধিক্যে 'নারিকেল জিঞ্জিরা' নামের প্রচলন।
  • ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ: ব্রিটিশ ভূ-জরীপ দল কর্তৃক 'সেন্ট মার্টিন' নামকরণ।

✍️ সেন্ট মার্টিন নামের উৎপত্তি

সেন্ট মার্টিন নামটি কীভাবে এলো—এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় শিক্ষক বাতায়নের নিবন্ধে। সেখানে বলা হয়েছে, ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ব্রিটিশ ভূ-জরীপ দল এই দ্বীপকে ব্রিটিশ-ভারতের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে। জরীপে তারা স্থানীয় নামের পরিবর্তে খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে 'সেন্ট মার্টিন' নাম প্রদান করে। এরপর ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের বাইরের মানুষের কাছে দ্বীপটি সেন্ট মার্টিন নামেই পরিচিতি লাভ করে ।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের তথ্যেও একই কথা উল্লেখ আছে—জরীপে স্থানীয় নামের পরিবর্তে খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে সেন্ট মার্টিন নাম প্রদান করা হয়। তবে চ্যানেল আই-এর একটি প্রতিবেদনে নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী নাম 'নারিকেল জিঞ্জিরা' ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

⚠️ মনে রাখবেন: নামকরণের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র (বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও শিক্ষক বাতায়ন) অনুযায়ী, ব্রিটিশ ভূ-জরীপ দলই সেন্ট মার্টিন নামটি প্রদান করে।

📚 অন্যান্য নামসমূহ

নারিকেল জিঞ্জিরা ছাড়াও সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আরও কয়েকটি নাম পাওয়া যায় বিভিন্ন সূত্রে।

নাম বিবরণ সূত্র
জিঞ্জিরা আরব বণিকদের দেওয়া প্রাচীন নাম বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন
নারকেল জিঞ্জিরা নারিকেল জিঞ্জিরার ভিন্ন বানান শিক্ষক বাতায়ন
দারুচিনি দ্বীপ দারুচিনি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতির কারণে একাডেমিক গবেষণা
জাজিরা আরব বণিকদের দেওয়া অপর নাম শিক্ষক বাতায়ন
দেরদিউসা দ্বীপ কিছু সূত্রে উল্লিখিত শিক্ষক বাতায়ন

শিক্ষক বাতায়নের একটি নিবন্ধে সেন্ট মার্টিনকে "নারিকেল জিঞ্জিরা, নারকেল জিঞ্জিরা, জিঞ্জিরা, জাজিরা, দারুচিনি দ্বীপ বা দেরদিউসা দ্বীপ নামেও পরিচিত" বলা হয়েছে। তবে সবচেয়ে প্রচলিত ও পরিচিত অপর নাম হলো নারিকেল জিঞ্জিরা।

ℹ️ জানুন: একাডেমিক গবেষণায় 'দারুচিনি দ্বীপ' নামের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—পূর্ব বা সুদূর পূর্ব দেশ থেকে আসা দারুচিনি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতির কারণে এই নামটি এসেছে বলে ধারণা করা হয় । তবে এটি নারিকেল জিঞ্জিরার মতো সাধারণভাবে ব্যবহৃত নাম নয়।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অপর নাম কি?

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সবচেয়ে পরিচিত অপর নাম হলো নারিকেল জিঞ্জিরা (Narikel Jinjira)। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও শিক্ষক বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। এছাড়াও জিঞ্জিরা, নারকেল জিঞ্জিরা, দারুচিনি দ্বীপ ইত্যাদি নামেও এটি পরিচিত ছিল।

নারিকেল জিঞ্জিরা নামের অর্থ কী?

নারিকেল জিঞ্জিরা শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'নারকেল দ্বীপ' বা 'কোকোনাট আইল্যান্ড'। ইংরেজিতে এটিকে 'Coconut Island' বলা হয়। দ্বীপে প্রচুর নারকেল গাছ থাকার কারণেই স্থানীয়দের কাছে এই নামটি প্রচলিত হয়।

সেন্ট মার্টিন নামটি কীভাবে এলো?

শিক্ষক বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ব্রিটিশ ভূ-জরীপ দল এই দ্বীপকে ব্রিটিশ-ভারতের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে। জরীপে তারা স্থানীয় নামের পরিবর্তে খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে 'সেন্ট মার্টিন' নাম প্রদান করে। এরপর ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের বাইরের মানুষের কাছে দ্বীপটি সেন্ট মার্টিন নামেই পরিচিতি লাভ করে।

সেন্ট মার্টিনকে কি দারুচিনি দ্বীপ বলা হয়?

হ্যাঁ, কিছু সূত্রে সেন্ট মার্টিনকে 'দারুচিনি দ্বীপ' (Daruchini Dip) নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। একাডেমিক গবেষণায় বলা হয়েছে, পূর্ব বা সুদূর পূর্ব দেশ থেকে আসা দারুচিনি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতির কারণে এই নামটি এসেছে বলে ধারণা করা হয়। তবে এটি নারিকেল জিঞ্জিরার মতো সাধারণভাবে ব্যবহৃত নাম নয়।

সেন্ট মার্টিনের পুরোনো নাম কী ছিল?

সেন্ট মার্টিনের পুরোনো নাম ছিল 'জিঞ্জিরা'। প্রথম কিছু আরব বণিক এই দ্বীপটির নামকরণ করেছিল জিঞ্জিরা। কালক্রমে চট্টগ্রাম এবং তৎসংলগ্ন মানুষ এই দ্বীপটিকে জিঞ্জিরা নামেই চিনতো। পরবর্তীতে নারিকেল গাছের আধিক্যের কারণে স্থানীয়রা উত্তরাংশকে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে অভিহিত করতে শুরু করে।

বর্তমানে স্থানীয়রা সেন্ট মার্টিনকে কী নামে ডাকে?

বর্তমানে দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনেক মানুষ এখনও সেন্ট মার্টিনকে 'নারিকেল জিঞ্জিরা' নামে ডেকে থাকেন। শিক্ষক বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপের উত্তরাঞ্চলীয় অংশকে এখনও 'নারিকেল জিঞ্জিরা' বা 'উত্তর পাড়া' বলা হয়।

📝 জরুরি তথ্য ও শর্তাবলী

• এই পেজে দেওয়া নাম ও ইতিহাসের তথ্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, শিক্ষক বাতায়ন এবং একাডেমিক গবেষণাপত্র থেকে সংগৃহীত।

• নামকরণের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র অনুসরণ করা হয়েছে।

• Coxroom.com কোনো সরকারি সংস্থা নয় এবং এই তথ্যের চূড়ান্ত নির্ভুলতার নিশ্চয়তা দেয় না।

• এই গাইড শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে তৈরি।

লেখাটি যেভাবে বলে, সেভাবে সফর সাজান

এই ডিরেক্টরির আসল তালিকা — হোটেল বা সেবাদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। CoxRoom কোনো বুকিং নেয় না।

হোটেল

সব হোটেল দেখুন

দর্শনীয় স্থান

সব দর্শনীয় স্থান দেখুন
সব লেখা দেখুন