মুদ্রা
মূল্য প্রতিটি প্রোভাইডারের দেওয়া হিসেবেই বাংলাদেশি টাকায় (BDT) দেখানো হয়েছে।

ভ্রমণ

সেন্ট মার্টিন যাওয়ার অনুমতি ও ট্রাভেল পাস: নিয়ম ও সূত্র

সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং এর পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই সরকার এই দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে সেন্ট মার্টিন যেতে হলে শুধু জাহাজের টিকিট কিনলেই হয় না—টিকিটের সাথে ট্রাভেল পাস ও QR কোড থাকা বাধ্যতামূলক। এই গাইডে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার অনুমতি, ট্রাভেল পাস, ভ্রমণ মৌসুম এবং সরকারি ১২ দফা নির্দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

📄 সংক্ষিপ্ত উত্তর: সেন্ট মার্টিন যাওয়ার অনুমতি কীভাবে পাবেন

সেন্ট মার্টিন যাওয়ার অনুমতি এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হয় । এই টিকিটের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাভেল পাস ও QR কোড তৈরি হয়। QR কোডবিহীন টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে ।

অর্থাৎ, আলাদা করে কোনো "অনুমতি" বা "পাস" এর জন্য আবেদন করতে হয় না—স্বীকৃত উৎস থেকে টিকিট কিনলেই আপনি ভ্রমণের অনুমতি পেয়ে যান। তবে টিকিট কেনার আগে অবশ্যই ভ্রমণ মৌসুম, রাত যাপনের নিয়ম এবং টিকিটের বৈধতা যাচাই করে নিতে হবে।

💡 মূল বিষয়গুলো এক নজরে

  • টিকিট কিনুন শুধুমাত্র স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল বা অনুমোদিত জাহাজ অপারেটরের কাছ থেকে
  • টিকিটে ট্রাভেল পাস ও QR কোড আছে কিনা নিশ্চিত করুন
  • প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক ভ্রমণ করতে পারেন
  • নভেম্বরে রাত যাপন নিষিদ্ধ, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সীমিত অনুমতি

⚠️ মনে রাখবেন: সরকারি নিয়ম ও ভ্রমণ মৌসুম সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। যাওয়ার আগে অবশ্যই চলতি মৌসুমের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নিন।

📱 ট্রাভেল পাস ও QR কোড: কী এবং কেন প্রয়োজন

ট্রাভেল পাস হলো সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য সরকারিভাবে প্রদত্ত একটি ডিজিটাল অনুমতি, যা টিকিটের সাথে সংযুক্ত থাকে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত পোর্টাল থেকে টিকিট কিনতে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও QR কোড থাকবে।

ট্রাভেল পাস কীভাবে পাবেন

  • বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালে অনলাইনে টিকিট কিনুন
  • টিকিট কেনার সাথে সাথেই QR কোডযুক্ত ট্রাভেল পাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে
  • যাত্রার আগে অবশ্যই প্রিন্টেড টিকিট সংগ্রহ করুন যাতে QR কোড স্পষ্ট দেখা যায়
  • QR কোডবিহীন টিকিট বৈধ নয় এবং নকল হিসেবে গণ্য হবে

একটি অনুমোদিত জাহাজ অপারেটরের টিকিটিং অফিসার জানিয়েছেন, পর্যটকদের আলাদা করে ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করতে হয় না—স্বীকৃত জাহাজের টিকিট কিনলেই প্রয়োজনীয় QR-কোডযুক্ত পাস তৈরি হয়ে যায়।

বিষয় নিয়ম
টিকিটের উৎস বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত পোর্টাল বা অনুমোদিত জাহাজ অপারেটর
ট্রাভেল পাস টিকিটের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়
QR কোড বাধ্যতামূলক; ছাড়া টিকিট অবৈধ
প্রিন্টেড টিকিট যাত্রার আগে সংগ্রহ করতে হবে

🎫 টিকিট কেনার নিয়ম ও সূত্র

সেন্ট মার্টিন যাওয়ার টিকিট কেনার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মানতে হয়। এসব নিয়ম না মানলে ভ্রমণে সমস্যা হতে পারে বা টিকিট বাতিলও হতে পারে।

টিকিট কেনার ধাপ

  1. বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল খুঁজুন
  2. ভ্রমণের তারিখ, জাহাজ ও ক্লাস নির্বাচন করুন
  3. টিকিট কিনুন এবং QR কোডযুক্ত ট্রাভেল পাস ডাউনলোড করুন
  4. যাত্রার আগে প্রিন্টেড টিকিট সংগ্রহ করুন
  5. জাহাজে ওঠার সময় টিকিট ও QR কোড দেখাতে প্রস্তুত থাকুন

অনুমোদিত জাহাজ অপারেটর

এই মৌসুমে সরকার ছয়টি জাহাজকে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে MV Karnaphuli Express, MV Bar Aulia, MV Bay Cruise, MV Kajol, Keari Sindbad, এবং Keari Cruise and Dine। তবে জাহাজের তালিকা ও সময়সূচি মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

জাহাজ ছাড়ার স্থান

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজগুলো কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে যায় এবং পরদিন বিকাল ৩টায় সেন্ট মার্টিন থেকে ফিরে আসে। টেকনাফ রুট এই মৌসুমে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

💡 টিকিট কেনার টিপস

  • ভ্রমণের তারিখের অনেক আগেই টিকিট কিনে ফেলুন, কারণ চাহিদা বেশি থাকে
  • টিকিট কেনার আগে জাহাজের সময়সূচি ও ফিরতি সময় যাচাই করুন
  • QR কোড স্পষ্টভাবে দেখা যায় এমন প্রিন্টেড টিকিট সংগ্রহ করুন
  • টিকিটের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করুন

📅 ভ্রমণ মৌসুম ও রাত যাপনের নিয়ম

সেন্ট মার্টিনে সারা বছর পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি নেই। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম ধরা হয়েছে।

মাস ভ্রমণ রাত যাপন
নভেম্বর শুধু দিনের বেলায় নিষিদ্ধ
ডিসেম্বর অনুমোদিত সীমিত সংখ্যক পর্যটকের জন্য অনুমোদিত
জানুয়ারি অনুমোদিত সীমিত সংখ্যক পর্যটকের জন্য অনুমোদিত
ফেব্রুয়ারি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ —

মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত টানা নয় মাস সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ থাকে । তবে বিশেষ অনুমতি নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ (যেমন স্থানীয় বাসিন্দা, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, গবেষক) দ্বীপে যাতায়াত করতে পারেন।

⚠️ সতর্কতা: সরকার ভ্রমণ মৌসুম ও নিয়ম পুনর্বিবেচনা করতে পারে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ভ্রমণ সময়সীমা, দৈনিক পর্যটক সংখ্যা ও জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনার কথা জানানো হয়েছে । তাই যাওয়ার আগে সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

📜 সরকারি ১২ দফা নির্দেশনা

সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছে । এই নির্দেশনাগুলো পর্যটকদের অবশ্যই মানতে হবে।

১

নৌযান নিয়ন্ত্রণ: পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও BIWTA-এর অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্ট মার্টিনে চলাচল করতে পারবে না।

২

অনলাইন টিকিট: বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত পোর্টাল থেকে টিকিট কিনতে হবে, যাতে ট্রাভেল পাস ও QR কোড থাকবে।

৩

QR কোড বাধ্যতামূলক: QR কোডবিহীন টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

৪

রাত যাপন নিয়ন্ত্রণ: নভেম্বরে রাত যাপন নিষিদ্ধ; ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সীমিত রাত যাপনের অনুমতি।

৫

দৈনিক সীমা: প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন।

৬

সৈকতে আলো ও শব্দ নিষিদ্ধ: রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান বাজানো বা বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না।

৭

কেয়া বন সুরক্ষা: কেয়া বনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি নিষিদ্ধ।

৮

জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা: সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।

৯

মোটরযান নিষিদ্ধ: সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ কোনো মোটরচালিত যান চলাচল করতে পারবে না।

১০

পলিথিন নিষিদ্ধ: দ্বীপে পলিথিন ব্যাগ বহন করা যাবে না।

১১

একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক নিরুৎসাহিত: চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান-শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল বহন নিরুৎসাহিত।

১২

পুনঃব্যবহারযোগ্য ফ্লাস্ক: পর্যটকদের নিজেদের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

🚫 গুরুত্বপূর্ণ: এসব নির্দেশনা না মানলে জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি পর্যটকের দায়িত্ব রয়েছে।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা

সেন্ট মার্টিন যেতে কি আলাদা ট্রাভেল পাস লাগবে?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে টিকিট কিনলেই ট্রাভেল পাস ও QR কোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়। আলাদা করে পাসের জন্য আবেদন করতে হয় না। তবে QR কোডবিহীন টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

সেন্ট মার্টিন যাওয়ার টিকিট কোথায় কিনতে হবে?

সেন্ট মার্টিন যাওয়ার টিকিট বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে কিনতে হয়। অনুমোদিত জাহাজ অপারেটর বা ট্রাভেল এজেন্টের কাছ থেকেও টিকিট কেনা যায়, তবে টিকিটে অবশ্যই ট্রাভেল পাস ও QR কোড থাকতে হবে।

সেন্ট মার্টিনে প্রতিদিন কতজন পর্যটক যেতে পারেন?

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ জন পর্যটক ভ্রমণ করতে পারেন। এই সংখ্যা সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

সেন্ট মার্টিনে কখন রাত যাপন করা যায়?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যায় এবং রাত যাপন নিষিদ্ধ। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সীমিত সংখ্যক পর্যটকের রাত যাপনের অনুমতি থাকে। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

সেন্ট মার্টিনে কী কী কাজ নিষিদ্ধ?

সেন্ট মার্টিনে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান বাজানো, বারবিকিউ পার্টি, কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি, সামুদ্রিক কাছিম, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা এবং সৈকতে মোটরচালিত যান চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পলিথিন বহনও নিষিদ্ধ।

📝 জরুরি তথ্য ও শর্তাবলী

• সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ সংক্রান্ত جميع নিয়ম ও নির্দেশনা সরকার সময়ে সময়ে পরিবর্তন করতে পারে। এই পেজে দেওয়া তথ্য সাধারণ গাইড হিসেবে প্রযোজ্য।

• Coxroom.com কোনো টিকিট, ট্রাভেল পাস বা ভ্রমণ অনুমতি ইস্যু করে না এবং কোনো জাহাজ বা ট্যুর অপারেটরের সাথে সম্পর্কিত নয়।

• ভ্রমণের আগে অবশ্যই সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নিন।

• কোনো অনানুষ্ঠানিক বা অননুমোদিত সূত্র থেকে টিকিট কিনলে তার দায়ভার ক্রেতার।

লেখাটি যেভাবে বলে, সেভাবে সফর সাজান

এই ডিরেক্টরির আসল তালিকা — হোটেল বা সেবাদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। CoxRoom কোনো বুকিং নেয় না।

হোটেল

সব হোটেল দেখুন

দর্শনীয় স্থান

সব দর্শনীয় স্থান দেখুন
সব লেখা দেখুন